দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই সমীক্ষা সম্পন্ন হবে। সমীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনার পর সেতু দুটির সঠিক অবস্থান নির্ধারণ, নকশা প্রণয়ন এবং প্রকল্পের মোট ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বৈঠকের আলোচনায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ সামগ্রিক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে।

প্রশাসন মনে করছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুততর হবে। এর পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে।

সেতু নির্মাণের পাশাপাশি বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা চালানো হয়। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ; পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার; সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ; পানিসম্পদসচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক; বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী; সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান; বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারেজের প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হাসান প্রমুখ।