বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখা চার জাতীয় নেতার স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত একটি পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে চার নেতা’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিকেল ৪টা থেকে এই প্রদর্শনীর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই ঘটনার কথা জানানো হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি মফিদুল হক জানান, পুলিশ এসে তাদের অনুষ্ঠানটি বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায়। তিনি বলেন, ‘দুপুরের দিকে পুলিশ এসে বলল প্রোগ্রাম বন্ধ রাখেন। অপ্রীতিকর কিছু হতে পারে। জাদুঘরে তো মূল্যবান সামগ্রী। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরাও মনে করলাম স্থগিত রাখাই ভালো।’

তিনি আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘দুপুরের দিকেই পুলিশে এসে বলে প্রোগ্রাম বন্ধ রাখে। অপ্রীতিকর কিছু হতে পারে। সেখানে পুলিশও মোতায়েন ছিল। নিরাপত্তা দেওয়ার কথা যদিও পুলিশেরই। তারাই যখন বললো তখন স্থগিত করতে হলো।’

অন্যদিকে, শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম এই বিষয়ে জানান যে, নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে তারা অনুষ্ঠানটি বন্ধের পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল। নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা তাদের জানিয়েছি। তারাই অনুষ্ঠানটি স্থগিত করেছেন।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন, সেই কঠিন সময়ে মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মো. মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন গঠিত অস্থায়ী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন আহমদ নিযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। মনসুর আলী ছিলেন প্রবাসী সরকারের অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হিসেবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, সেই সময়ে দলের এই চার গুরুত্বপূর্ণ নেতাসহ আরও অনেককে বন্দি করা হয়। এরপর প্রায় আড়াই মাস পর ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এই চার নেতাকে।