ভারতের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট রঞ্জি ট্রফিতে এক অভাবনীয় ও অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে মেঘালয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমের প্লেট গ্রুপে প্রথম তিনটি ম্যাচে অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করলেও, চতুর্থ ম্যাচে এসে দলটি তাদের পুরো একাদশ বদলে ফেলেছে। ক্রিকেটীয় কোনো কৌশল বা খেলোয়াড়দের ফর্মের কারণে নয়, বরং প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলতি রঞ্জি ট্রফির আসরে প্রথম তিন ম্যাচে মেঘালয়ের পারফরম্যান্স ছিল সন্তোষজনক। তারা সিকিম ও মিজোরামের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করেছে এবং মণিপুরের বিপক্ষে জয়লাভ করেছে। এই সাফল্যের পর ২ নভেম্বর নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচে যখন তারা মাঠে নামে, তখন দেখা যায় তাদের পুরো একাদশটি সম্পূর্ণ নতুন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চরম সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে মেঘালয় ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) ভেতরে চলা তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। মেঘালয়ের সংবাদমাধ্যম 'হাইল্যান্ড পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমসিএ-র সভাপতি জেমস পিকে সাংমার সাথে সংস্থাটির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যদের বিরোধের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম তিনটি ম্যাচে যে দলটি মেঘালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিল, তারা ছিল অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত। তবে মেঘালয় হাইকোর্টের এক রায়ে ওই দলটিকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করা হয়। আদালতের এই রায়ের পর জেমস সাংমার পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি দল মাঠে নামানো হয়।

নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সময় এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত আগের দলের খেলোয়াড়েরা মাঠের বাইরে অপেক্ষারত থাকলেও, তাঁদের পরিবর্তে সাংমার মনোনীত ক্রিকেটাররা মাঠে নামেন। হাইল্যান্ড পোস্ট আরও জানিয়েছে, এই পরিবর্তন শুধু ছেলেদের মূল দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; অনূর্ধ্ব-২৩ পুরুষ ও নারী দলের ক্ষেত্রেও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত দলগুলো বদলে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত দলগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং সেই ক্রিকেটাররাই রঞ্জি ট্রফির প্রথম তিন ম্যাচে মেঘালয়ের হয়ে খেলেছিলেন।

এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে হাইল্যান্ড পোস্টকে জেমস সাংমা বলেন, ‘খেলোয়াড় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচক কমিটি। আমি এতে হস্তক্ষেপ করব না। আমাদের এমন খেলোয়াড় আছেন, যাঁরা খেলাটিকে ভালোবাসেন এবং এটিকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবেও দেখেন। তাঁদের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।’

অন্যদিকে, মেঘালয়ের কোচ নীতেশ শর্মা এই ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা ভীষণ হতাশ। তবে আমরা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইনি। আমাদের অবৈধ বলা হচ্ছে, কিন্তু এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা, ছেলেদের কোনো দোষ নেই।’

ক্রিকেটের ইতিহাসে পুরো একাদশ বদলে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও এটি সম্পূর্ণ নজিরবিহীন নয়। সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণটি পাওয়া যায় ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে। সে সময় অর্থসংক্রান্ত বিরোধের কারণে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্টে খেলা পুরো একাদশ দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে অস্বীকার করে। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে নতুন ১১ জন ক্রিকেটার মাঠে নামাতে হয়, যাদের মধ্যে ৯ জনেরই ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক।

মেঘালয়ের আগের তিন ম্যাচের একাদশে ছিলেন: কিশান লিংডোহ (অধিনায়ক), অর্পিত ভাটেওয়ারা (উইকেটকিপার), কেভিন ক্রিস্টোফার, অজয় দাহান, রাহুল দালাল, স্বস্তিক ছেত্রী, জাসকিরাত সিং সচদেবা, বিপিন রায়, রাম গুরুং, আরিয়ান বোরা ও অভিষেক কুমার।

আর নতুন একাদশে রয়েছেন: জীবনজ্যোৎ সিং (অধিনায়ক), শ্রীনিবাস শরৎ (উইকেটকিপার), রাজ বিসওয়া, বামনভা শ্যাংপ্লিয়াং, জোসিয়া মমিন, অক্ষয় কার্নেওয়ার, স্বরাজিৎ দাস, দিপ্পু সাংমা, আকাশ চৌধুরী, মনীশ শর্মা ও নাফিস সিদ্দিকী।