মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের ধলাগাঁও বাজারে সরকারি খাসজমিতে অবস্থিত একটি শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কড়ই গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গাছটির ডালপালা কেটে ফেলার এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষায় গাছটিকে দ্রুত সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলাগাঁও বাজারের সড়কের পাশে দীর্ঘকাল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছটি ওই এলাকার এক পরিচিত ঐতিহ্যের অংশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি গাছটি স্থানীয় মানুষের বহু স্মৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে সড়কের পাশে অবস্থান করায় যানবাহন চলাচলে কিছুটা সমস্যা হয় বলে জানা গেছে। এই কারণে এর আগে বিভিন্ন সময়ে গাছটির ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়েছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি অজ্ঞাতপরিচয় কেউ বা কারা গাছটির বিভিন্ন ডালপালা ও অংশ কেটে ফেলছেন। তবে এই বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের আশঙ্কা, পরিকল্পিতভাবে গাছটিকে পুরোপুরি কেটে ফেলে পরবর্তীতে সরকারি খাসজমি দখলের চেষ্টা করা হতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সপক্ষে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, শত বছরের পুরোনো এই গাছটি ধলাগাঁও বাজারের ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এভাবে গাছটির ক্ষতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে গাছটিকে রক্ষা করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, গাছটির ডালপালা কাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এর চারপাশে সুরক্ষাবেষ্টনী নির্মাণের মাধ্যমে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কারা গাছটির ক্ষতি করছে এবং এর পেছনে সরকারি খাসজমি দখলের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এই বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গাছটি বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। গাছটির এক পাশের একটি ডাল অনেক আগে কাটা হয়েছিল; তবে এ ছাড়া গাছের বাকি অংশ অক্ষত ও স্বাভাবিক রয়েছে।”