সিলেটের ওসমানীনগরে পারিবারিক কলহের জেরে সাইফুর রহমান (৩০) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার শেরপুর টোলপ্লাজার সংলগ্ন এলাকায়।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, নিহত সাইফুর রহমান ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের resident করম উদ্দিনের পুত্র। অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত সেজু মিয়া একই উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের মস্তাপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, তারা পরস্পর ফুফাতো-মামাতো ভাই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে সাইফুর ও সেজুর পরিবারগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সোমবার রাতে শেরপুর টোলপ্লাজার পাশে অবস্থিত একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন সাইফুর। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে সেজু সেখানে এসে তাকে ছুরিকাঘাত করেন এবং দ্রুতই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা রাতেই সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ফেলেন। এর ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ওসমানীনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, “পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান যে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সেজু মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।