ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও বৃদ্ধি করেছে আদালত। আগামী ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এই মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ পর্যন্ত মোট ২১ বার সময় পেয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিবেদন জমার তারিখ এখন পর্যন্ত ২১ বার পেছানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে সিআইডি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত নতুন করে তারিখ ঘোষণা করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। ঘটনার পরপরই তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

গুলি করার এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

ওসমান হাদি হত্যা মামলাটি তদন্ত করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তবে মামলার বাদী উক্ত অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি প্রকাশ করেন। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি-র কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর থেকেই মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।