শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা প্রদান করেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের খালপাড় এলাকায় অবস্থিত শহীদ রফিক চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল জাবের স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে কীভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। এ দায় সরকারের, ইনকিলাব মঞ্চের নয়।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের জন্য ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপির জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে। আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, বিএনপি যদি সেই একই পথ অনুসরণ করে, তবে তারাও দীর্ঘকাল ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।

জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার চিঠি পাঠানো হলেও ভারত থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এমনকি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে এই বিষয়ে কথা না বলার জন্য ফোন করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার এই প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট সময় পেয়েছে। এর আগে নির্বাচনের আগে যখন বিচার দাবিতে আন্দোলন করা হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল যে নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার আট মাস পার হয়ে গেলেও কেন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে বলে তিনি জানান।

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি তুলে জাবের বলেন, “গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং নিজে ভোট দিয়েছেন। অথচ এখন সেই রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বিএনপিকে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।”

রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জাবের জানান, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে কারও বাবাকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে, আবার কারও স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তামাশা করলে এবং তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করলে গণক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে। গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি যদি সেই গণভোটের রায়কেই অগ্রাহ্য করে, তবে তা দলটির জন্য এক বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার সুনিশ্চিত করা এবং জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জোরালো দাবি জানানো হয়।