বাংলাদেশে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এসেছে, তা যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধা পৌর পার্কের জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। হাদিসহ জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে সেখানে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালিত হয়।

সম্বোধনে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “জুলাই করে যাদের এ দেশের মানুষ ক্ষমতায় বসিয়েছে, জুলাইয়ের কথা শুনলেই তাদের গা জ্বালা শুরু হয়। তারা মনে করেন, ১৭ বছর পর লন্ডন আর ভারত থেকে নিয়ে এসে এ দেশের মানুষ তাদের জোর করে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনাকে তাড়িয়ে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দেয়নি।”

নতুন করে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের উত্থান রোধ করার বিষয়ে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “আমরা জুলাই ঘটিয়েছি। সুতরাং কেউ যদি নতুন করে হাসিনা হতে চায়, নতুন করে ফ্যাসিবাদী সমাজ কায়েম করতে চায়, গুম-খুন ও হত্যার রাজনীতি করতে চায়, তাদের সঙ্গে আরও একটি কাজ করতে হবে—দিল্লির টিকিট কেটে সঙ্গে রেখে দিতে হবে। বাংলাদেশে বসে নতুন করে আর কাউকে স্বৈরাচারী হাসিনা হতে দেব না।”

হাদি হত্যার বিচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাবের অভিযোগ করেন, আসামিরা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় নিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, “হাদি হত্যার আসামিরা ভারতে পালিয়ে আছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কোনো পদক্ষেপ বর্তমান সরকার নিচ্ছে না। আমরা যখন বিচারের দাবি নিয়ে সারা দেশ ঘুরছি, তখন হাসিনার প্রেতাত্মারা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা জুলাই যোদ্ধাদের হুমকি দিচ্ছেন।”

ভারতের প্রভাবের বিষয়ে কথা বলে তিনি বলেন, “ভারতে পা-চাটা গোলাম হওয়ার জন্য হাদি হত্যার বিচার করা হচ্ছে না। বর্তমান সরকার দিল্লির আধিপত্য কায়েম করতে চাইলে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।”

বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাবের বলেন, “যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন এবং যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যা ও হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গু করার ক্ষেত্রে ইন্ধন ছিল, বর্তমান সরকার তাদের পুরস্কার হিসেবে পদোন্নতি দিচ্ছে। দলের বাইরে থেকে মানুষ ভাড়া করে এনে বড় বড় পদে বসানো হচ্ছে, অথচ নিজ দলের দীর্ঘদিনের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কেউ সহ্য করবে না।”

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দেশে বর্তমানে সবকিছুর হাহাকার, কিন্তু এসব সরকারের নজরে আসে না। তারা ক্ষমতায় গিয়ে কপালে চশমা পরে এসব কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।”

উক্ত কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সদস্য সাফিন ও সাব্বির এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ সজলের মা শাহানাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।