কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীতে মাদকাসক্ত ছেলের প্রাণনাশের হুমকির মুখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এক মাকে। সাথে নিয়ে সাত বছরের নাতিকে, যাদের বর্তমান আশ্রয়স্থল এক আত্মীয়ের বাড়ি। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা ও উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন নাসিমা বেওয়া (৪৭)।

জানা গেছে, গত রোববার (১ নভেম্বর) কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই রাজু নামক এক যুবক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। এই হুমকির মুখে আতঙ্কিত হয়ে ওই দিনই নাসিমা বেওয়া তার সাত বছরের নাতি মিনহাজকে নিয়ে বাবার বাড়ি পাইকেরছড়ায় আশ্রয় নেন। অভিযোগ উঠেছে যে, এরপর রাজু তাদের বাড়িতে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং মাকে খুঁজে বেড়ান।

ভুক্তভোগী নাসিমা বেওয়া ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের দফাদার মোড় এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী মৃত হবিবর রহমান। তার ছেলে রাজু মিয়ার (২২) বিরুদ্ধে তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর নাসিমা তার দুই ছেলে, বড় ছেলের স্ত্রী এবং নাতিকে নিয়ে একত্রে বসবাস করছিলেন। পরিবারের দাবি, বড় ছেলে রাজু ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। রাজুর ক্রমাগত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় এক বছর আগে তার স্ত্রী স্বামী ও সন্তানকে বাড়িতে রেখে ঢাকায় চলে যান। এরপর মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য রাজু তার মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র বিক্রি করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ২ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক পরিচালিত এক ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজুকে ১০০ টাকা জরিমানা এবং পাঁচ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। রাজু কারাগারে যাওয়ার পর আতঙ্কে তার ছোট ভাই লিমন (১৮) ঢাকায় চলে যান বলে জানা গেছে।

নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে নাসিমা বেওয়া বলেন, ‘ছেলের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। থানায় গিয়েছিলাম, তারা ইউএনওর কাছে যেতে বলেছেন। ইউএনওর কাছে আসার পর আবার থানায় যেতে বলেছেন। রাজু আমাকে পেলে মেরে ফেলবে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।’

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, খবর পেয়ে রোববার রাতে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে রাজু কারও কথা শুনতে রাজি হননি। তিনি জানান, রাজু তার মাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং ঘরের তালা ও বেড়া ভেঙে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া রাজু মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়ে থাকেন বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, নাসিমা বেওয়া থানায় এসেছিলেন কি না, তা তার জানা নেই। কারণ ওই সময় তিনি আদালতে অবস্থান করছিলেন। তবে নাসিমা থানায় এলে তার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ জানান, ওই নারী তার কাছে এসেছিলেন। তাকে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।