জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনার বিপক্ষে এক অদ্ভুত ও বিশেষ বোঝাপড়া যেন তৈরি হয়েছে আল আমিন জুনিয়রের। গত মৌসুমে খুলনার বিরুদ্ধেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘ ছয় মৌসুমের সেঞ্চুরি-খরা কাটিয়েছিলেন তিনি। এবারও প্রতিপক্ষ সেই খুলনা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আল আমিনের রানের সংখ্যাটিও বদলায়নি। আবারও করলেন ১০২ রান!
ময়মনসিংহের হয়ে খেলা এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার গত মৌসুমে খুলনার বিপক্ষে অপরাজিত ১০২ রান করেছিলেন, যা ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। আজ একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিনি নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। তবে এবার পার্থক্য ছিল এই যে, তিনি অপরাজিত থাকতে পারেননি এবং রানগুলো এসেছে দ্বিতীয় ইনিংসে।
আল আমিনের এই সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ম্যাচে খুব একটা স্বস্তিতে নেই ময়মনসিংহ। ফলো-অনে পড়া দলটি তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান সংগ্রহ করেছে। ফলে তারা খুলনার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৩৫ রানে এগিয়ে রয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৫৭ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল ময়মনসিংহ। তবে স্কোরে মাত্র ৫ রান যোগ হতেই আরও ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে আবদুল মজিদকে (৫৯) সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ১১৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন আল আমিন। ১৮৫ বলের এই ইনিংসে তিনি ১০টি চার মেরেছেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত ক্র্যাম্পের কারণে ১০১ রানের মাথায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে অষ্টম উইকেট পতনের পর পুনরায় ব্যাটিংয়ে নেমে ২ বলে ১ রান করে আউট হন তিনি। অফ স্পিনার শেখ পারভেজের চতুর্থ শিকার হিসেবে তিনি মাঠ ছাড়েন।
গত মৌসুমে খুলনার সাথে ম্যাচটি ড্র করেছিল ময়মনসিংহ। এবারও শেষ দিনে রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সুযোগ থাকছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের সামনে জয়ের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে ২২৭ রান। তৃতীয় দিন শেষে ১ উইকেটে ১২৬ রান তুলে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে চট্টগ্রাম। এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে দ্বিতীয় জয় পেতে দলটির এখন আর মাত্র ১০১ রানের প্রয়োজন। ওপেনার সাদিকুর রহমান ৫৮ এবং ওয়ানডাউনে নামা শাহ পরান ৫১ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয়ের আশা ধরে রেখেছেন।
এর আগে ২ উইকেটে ৮৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা সিলেট দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৮ রানেই অলআউট হয়ে গেছে। প্রথম ইনিংসেও তারা ঠিক একই রানেই আউট হয়েছিল। আজ ১৩৯ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারায় সিলেট। সেখান থেকে দলের সংগ্রহ দুই শ পার করিয়ে নেন ৯ নম্বরে নামা তোফায়েল আহমেদ, যার ব্যাট থেকে এসেছে ৪৭ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়া অমিত হাসান ২০ রান করেছেন; প্রথম ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৩৪। চট্টগ্রামের বাঁহাতি স্পিনার প্রথম ইনিংসের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নিয়েছেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে আসাদুজ্জামান পায়েলের। এত দিন একটি ইনিংসে পাঁচ উইকেটের দেখা পাননি রাজশাহীর এই মিডিয়াম পেসার। অবশেষে বগুড়ায় রংপুরের বিপক্ষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হলো তাঁর। রংপুরের প্রথম ইনিংসে ৬৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছেন পায়েল। ৩ উইকেটে ১২২ রান নিয়ে দিন শুরু করা রংপুর শেষ পর্যন্ত ২৫৬ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে ওপেনার অনিক সরকার ৭৫ এবং পাঁচ নম্বরে নামা ইকবাল হোসেন ৭০ রান করেন।
প্রথম ইনিংসে ২৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা রাজশাহী দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে। সব মিলিয়ে তাদের লিড এখন ৮৫ রান।
এদিকে রাজশাহীতে ঢাকা ও বরিশালের ম্যাচে বৃষ্টির জন্য নয়, বরং আউটফিল্ড ভেজা থাকার কারণে প্রথম দুই দিন একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। দুই দলের খেলোয়াড়দের পুরো সময় কাটাতে হয়েছে ড্রেসিংরুমে। অবশেষে তৃতীয় দিনে এসে শুরু হয়েছে ব্যাট-বলের লড়াই। টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান তুলেছে বরিশাল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করে অপরাজিত আছেন উইকেটকিপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।