চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলার বন্দরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন ও বিরক্তিকর আচরণ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হোসেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই সোমবার দুপুরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয়ে চড়াও হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল হোসেনকে আটক করে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিভাবকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তিকর আচরণ করে আসছিল শিক্ষক এনামুল। আজ দুপুরে আবারও একই কাণ্ড ঘটালে আমার মেয়ে বিষয়টি আমাকে জানায়। পরে আমরা গ্রামের লোকজন স্কুলে গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে কৈফিয়ত চাই। একপর্যায়ে সেখানে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।”
অন্যদিকে, আটকের সময় অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল হোসেন নিজের কর্মকাণ্ডের সাফাই গেয়ে বলেন, “আমি তাকে আদর করি। তবে ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।”
এই পুরো বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।