জামালপুরের নরুন্দি রেলওয়ে স্টেশনে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর জামালপুর এক্সপ্রেস। ভুলবশত পরিত্যক্ত একটি লাইনে ঢুকে পড়লেও চালকের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। লাইনের মাঝামাঝি কাটা অংশ এবং ক্রসিংয়ের পিলার লক্ষ্য করে চালক দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন, যার ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে ট্রেনটি পেছনে সরিয়ে পয়েন্ট পরিবর্তন করে নির্ধারিত লাইনে প্রবেশ করানো হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ট্রেনটির গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্ব হয়। বিকেল বেলা নরুন্দি স্টেশন ছেড়ে ট্রেনটি জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা থেকে আসা জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনটি নরুন্দি স্টেশনে প্রবেশ করে। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনটির দুই নম্বর লাইনে ঢোকার কথা থাকলেও ভুলবশত সেটি পরিত্যক্ত তিন নম্বর লাইনে চলে যায়। স্টেশনের মাঝামাঝি কাটা লাইনে ক্রস পিলার দেখতে পেয়ে চালক দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও ট্রেনটি পরে পিছিয়ে এসে ক্রসিং ঠিক করে দুই নম্বর লাইনে প্রবেশ করে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় আধঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ট্রেনটি জামালপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবসায়ী বকুল মিয়া বলেন, “ট্রেন ঢোকার কথা দুই নম্বর লাইনে কিন্তু চলে যায় তিন নম্বরে। তবে ট্রেনের গতি কম থাকায় এবং চালকের বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।”
জানা গেছে, পাথর নামানোর সুবিধার্থে তিন নম্বর লাইনের অর্ধেক অংশ সচল রাখা হয়েছে এবং এর পয়েন্ট ম্যানুয়ালি পরিবর্তন করা হয়।
পয়েন্টসম্যান মুজিবুর রহমান নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, “পাথরের ট্রেন আসার কারণে বারবার পয়েন্ট পরিবর্তন করতে হয় এবং সে কারণেই এই ভুলটি হয়েছে।”
এই বিষয়ে নরুন্দি রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার দেওয়ান হারুন সালাফী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ম্যানুয়ালি পয়েন্ট পরিবর্তনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ভুলবশত ট্রেনটি তিন নম্বর লাইনে চলে গিয়েছিল, তবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।”