আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ৫০০ কোটি ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ইউএস ট্রেড শো। এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বাংলাদেশে পুনরায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে।
আগামী ৫ নভেম্বর থেকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে।
আজ সোমবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম)। এবারের আয়োজনটি হবে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো, যা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এই মেলা খোলা থাকবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনের এই প্রদর্শনীতে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থী ভিজিট করবেন। আগ্রহী দর্শনার্থীরা কেবল অনলাইনে নিবন্ধন করেই বিনামূল্যে এই প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যামচেম এই আয়োজনের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট। এছাড়া অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যের কথা আগেই জানিয়েছি। সেই লক্ষ্য অর্জনে এই ট্রেড শো ভূমিকা পালন করবে। তবে সে জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে যদি নতুন ১০-১২টি মার্কিন কোম্পানিকে এ দেশে আনা যায়, সেটাই হবে আমাদের অর্জন।’
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রদর্শনীতে ৩৬টি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি এবং সাতটি স্টার্টআপসহ মোট ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তাদের জন্য মোট ৬৩টি বুথ বরাদ্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা এই মেলায় অংশ নেবেন। তাঁরা বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং বিনিয়োগের প্রকৃত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন।
পাশাপাশি, প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা এবং জামদানিসহ বিভিন্ন জিআই (Geographical Indication) পণ্যের প্রদর্শনী প্রদর্শিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।