খুলনায় আবারও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকা থেকে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
গত ১২ দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনা মহানগর ও জেলা এলাকায় মোট সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন খুলনা মহানগর তাঁতী দলের একজন নেতা। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুসারে, খুলনা মহানগর ও জেলায় গুলি এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্ন উপায়ে মোট ৭৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
নদীর চরে মরদেহ উদ্ধার: রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর চরে আজ দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে ভাটার কারণে পানি কমে গেলে একই স্থানে আরও একটি মরদেহ দৃশ্যমান হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিহতদের একজন হলেন ৩৫ বছর বয়সী মেহেদী হাসান, যিনি রূপসার রাজাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে এবং একসময় জেলখানা ঘাটের মাঝি হিসেবে কাজ করতেন। অন্য নিহতের নাম ৩০ বছর বয়সী রেজাউল করিম।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুলনার অপরাধ জগতে কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন মেহেদী ও রেজাউল। উদ্ধারকৃত মরদেহ দুটির শরীরেই গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মেহেদী ও রেজাউল দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেহেদী চোখের ওপর ভ্রুর পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আর রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুজনই সন্ত্রাসী বাহিনী ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।”
মেহেদীর মরদেহ নদীর চরে পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন তাঁর বাবা আব্দুল্লাহ। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মেহেদী আলাদা থাকত। ছেলের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না।”
সাম্প্রতিক অন্যান্য হত্যাকাণ্ড: গতকাল রোববার সন্ধ্যায় খুলনা নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয় খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে। এছাড়া শনিবার দিবাগত রাতে নগরের লবণচরা এলাকার সড়ক থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে ফেলে যায়।
২৬ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত খুলনায় পৃথক তিনটি গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার দুটি ভিন্ন স্থানে গুলিতে আহত হন যুবদলের সাবেক দুই নেতা। পাশাপাশি খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
গত ২৫ অক্টোবর নগরের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আর ২৪ অক্টোবর নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু নামের এক কলেজশিক্ষককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন সকালে তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রামিম বিশ্বাস নামের যুবদলের এক নেতা আহত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ কাজ করেছে।
এর আগে ২২ অক্টোবর সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় এক গৃহবধূকে।