বহিরাগতদের উসকানি উপেক্ষা করে শ্রমিকদের দ্রুত কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে শ্রমিকদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাবুল আখতার জানান, শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরির বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই শ্রমিকেরা যেন বর্ধিত মজুরি পান, সে লক্ষ্য নিয়ে মজুরি বোর্ডে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।”

অন্যদিকে, পোশাকশিল্পের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমানে শ্রমিকদের কোনো আন্দোলন বা ধর্মঘট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের প্রধান দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা, যা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, যারা বর্তমানে সহিংস আন্দোলনে লিপ্ত, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

তিনি আরও বলেন, “মজুরি বোর্ডের জন্য শ্রমিকরা কখনো সড়ক-মহামসড়ক অবরোধ করেনি। আমরা দেখেছি মুখোশধারী যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা ওখানে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে।” পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আন্দোলনে যেসব শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পোশাকশিল্পের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শ্রমিক নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বেলা ১১টার পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পোশাকশিল্প মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পর সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জীবন মানের উন্নতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। তাদের জীবন মানের উন্নতি হয় এবং তাদের সমস্ত বিষয় বিবেচনা রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে সে বিষয়টি (ন্যূনতম মজুরি) নির্ধারিত হয়। এটা উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারিত হবে।”