ধর্মীয় পোশাক ও পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বর্তমানে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা লাভের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁর মতে, বর্তমানে ধ্যান ও ধর্মচর্চার নামে অনেকের মধ্যেই এক ধরণের অভিনয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চ ব্যবহার করে কেউ কেউ বিকৃত কথা বলার চেষ্টা করছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল নগরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি প্রসারে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “ধর্মের মর্মবাণীই হতে পারে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। অন্য কোনো ভাষা ব্যবহারের পরিবর্তে ধর্মের ভাষায় মানুষের কাছে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ধর্মগ্রন্থগুলোতেই সম্প্রীতির ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। প্রতিটি ধর্মগ্রন্থে মানবজাতির কল্যাণের কথা বলা হয়েছে। সম্প্রীতিই ধর্মের সবচেয়ে বড় বাণী।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের আয়াত, শ্লোক ও অনুচ্ছেদ যথাযথভাবে উপস্থাপন করে সম্প্রীতির কথা বলা হলে তা ধর্মবিরোধী বলার কোনো সুযোগ থাকে না। এর ফলে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে যে ধরণের বিকৃত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতারাই যখন ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন, তখন পরিস্থিতি কতটা জটিল হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। প্রতিবেশী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও সারা বিশ্ব অবগত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও ধর্মীয় পোশাকধারী কিছু ব্যক্তি ওয়াজ মাহফিল কিংবা রাজনৈতিক মঞ্চে উঠে এমন সব বক্তব্য দিচ্ছেন, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ধর্মীয় বক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে কথা বলার সময় অবশ্যই পবিত্র ধর্মগ্রন্থের আয়াত, অনুচ্ছেদ ও শ্লোকের আলোকে কথা বলতে হবে। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার মাধ্যমেই সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

বরিশাল টিআইবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়েদুল হক এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা।