ময়মনসিংহের তারাকান্দা এলাকায় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার এবং পুরো অঞ্চলটিকে মাদকমুক্ত করার জোরালো দাবিতে ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই আকস্মিক অবরোধের ফলে মহাসড়কটিতে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চলাচলকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

গত সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে স্থানীয় তিন শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর এক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তারাকান্দা শহরসহ এর সংলগ্ন গ্রামগুলোতে মাদক কেনাবেচার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কিশোর ও যুবকরা মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ মাদক কারবারিদের ধরতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না বলে মনে করে স্থানীয়রা, আর এই কারণেই তারা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে ওই এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ফরিদ হোসেন বলেন, “আমরা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিরা প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। তাদের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে, শিক্ষার্থীরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং এলাকার সামাজিক পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমরা বারবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাইনি।”

আন্দোলনকারী ইদ্রিস আলী বলেন, “আমরা চাই না আমাদের সন্তানরা মাদকের অন্ধকার জগতে হারিয়ে যাক। আমরা একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ চাই। তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং মাদক কারবারিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে আমরা এই কর্মসূচি পালন করেছি।”

এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাশিদ জানান, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়ার পর তারা সড়ক থেকে সরে যান। পাশাপাশি কোথাও মাদক কেনাবেচার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর জন্য স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে।