খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং, মারধর, হয়রানি এবং মাদক সেবনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শাস্তির তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, একজন শিক্ষার্থীকে পৃথক দুটি ভিন্ন ঘটনায় দুই দফায় শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিস্তারিত পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাগিং ও হয়রানির ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মারধরের ঘটনায় একজনকে বহিষ্কারের পাশাপাশি কয়েকজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং মাদক সেবনের দায়ে তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শাস্তির বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ফারদিন আহমেদ এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাঁদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত নথিতে দেখা যায়, চলতি বছরের ৬ মে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ জন শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র‍্যাগিংয়ের শিকার হন। এই ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং জুবায়ের হোসেনকে পরবর্তী এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এই ঘটনায় অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মণ্ডল ও সজল পালকে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ আমানকে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের আনুমানিক ২৫ জন শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই ডিসিপ্লিনের বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোড–সংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোর করে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মারুফ সরোয়ারকে পরবর্তী এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মিশন রহমান ও খায়রুল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাইদিস সালেহীন, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মণ ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকদের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

এই ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুশফিক উল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে পরবর্তী এক টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীন বলেন, “শাস্তির বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাডেমিক কাউন্সিলে আপিল করা যাবে।”