সদ্য বিদায়ী অক্টোবর মাসে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই মাসে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫৭ মিলিমিটার, যেখানে স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল ১৭৯ মিলিমিটার। অন্যদিকে, আগামী নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে দু–তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এই লঘুচাপগুলোর মধ্যে দু–একটি নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নভেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এই বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের বিশেষজ্ঞ কমিটির একটি নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে এই পূর্বাভাস চূড়ান্ত করা হয়।
অক্টোবর মাসের পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশের আটটি বিভাগের কোনোটিতেই স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়নি। সবচেয়ে ভয়াবহ বৃষ্টির ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগে স্বাভাবিক ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টির বিপরীতে হয়েছে মাত্র ৪২ মিলিমিটার, যার ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ। রাজধানী ঢাকায় স্বাভাবিক ১৬০ মিলিমিটারের বিপরীতে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৩২ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ কম। এছাড়া ময়মনসিংহে ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ, রংপুরে ৬৭ শতাংশ, খুলনায় ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগেও স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ৩০ দশমিক ৮ ও ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর মাসেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই মাসে ঢাকা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১০ থেকে ১৫, চট্টগ্রামে ৩৫ থেকে ৪০, সিলেটে ১৫ থেকে ২৫, রাজশাহীতে ১০ থেকে ১৫, রংপুরে ৪ থেকে ৮, খুলনায় ১৫ থেকে ২৫ এবং বরিশালে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
নভেম্বর মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিশেষ করে নদী অববাহিকায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি স্বাভাবিক প্রবাহে থাকার কথা বলা হয়েছে।
অক্টোবর মাসের আবহাওয়ার সামগ্রিক পর্যালোচনায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাসের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেয়। এই মাসে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। মাসের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ সৃষ্টি হয়েছিল। অক্টোবর মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে, যা ছিল ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়।