ইরান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টা ১১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৫৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১১ ডলার ৮৪ সেন্টে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৫৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১০২ ডলার ৫৬ সেন্টে নেমে এসেছে।

বর্তমানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বেশ জোরদার করা হয়েছে। এই লক্ষ্যেই টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ইরান ও কাতারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। যুদ্ধ বন্ধে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর এই প্রচেষ্টার প্রভাব তেলের বাজারে দরপতনের আকারে দেখা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল।

বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “গত সপ্তাহে দাম বাড়ার পর সোমবার সকালে বাজারে কিছুটা সংশোধন দেখা যাচ্ছে। কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা না থাকায় আপাতত তেলের দামের ওপর চাপ কমেছে।”

তবে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে যদি ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, “কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে চলমান ও অগ্রসরমান আলোচনার উদ্দেশ্য হলো পরামর্শ অব্যাহত রাখা।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তেহরান বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—উভয় পরিস্থিতির জন্যই সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দ্বারা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলেও, জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি জানিয়েছে যে, সৌদি আরব সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে।

পাশাপাশি, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও তাদের মিত্রদেশগুলো (ওপেক প্লাস) ডিসেম্বরের জন্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুদ্ধের কারণে তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটলেও আগামী বছর পর্যন্ত উৎপাদন নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না আনার ইঙ্গিত দিয়েছে এই জোট।