পটুয়াখালীর সদর এলাকায় বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, হামলার বিচার এবং সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবিতে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনে বসেছেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিনি এই অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

অনশনরত ওই মুক্তিযোদ্ধার নাম মো. আজাহার আলী হাওলাদার, যার বয়স ৭৬ বছর। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা।

নিজের অভিযোগ ব্যক্ত করে আজাহার আলী জানান, দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন তাকে তার বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে চলেছেন। এই উদ্দেশ্যে তাকে বিভিন্ন সময়ে নানা হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু হুমকিই নয়, তার বাড়িতে সরাসরি হামলা পর্যন্ত চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বসতভিটায় নিরাপদে থাকতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরের কাজ শেষ করতে পারছি না। আমি আমার বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে ঘর বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সেটির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তিনি এখনও কাঙ্ক্ষিত ঘরটির সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কামাল গাজী (৫০), ফারুক গাজী (৪৫), শামীম (৪০), লিটন (৫৫) এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুব শীঘ্রই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এই মামলায় ইতিমধ্যে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অনশনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা বলেন, মুক্তিযোদ্ধার জন্য যে জমিতে সরকারি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই জমির মালিকানা তার নেই। ওই জমিটি সরকারি খাস জমি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। এই আইনি জটিলতার কারণেই সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইউএনও আরও উল্লেখ করেন, আজাহার আলীর যদি নিজস্ব কোনো জমি থাকে, তবে সেখানে ঘর নির্মাণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে তিনি এখনও সেই আবেদন জমা দেননি। তবে বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।