পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রথম এইচএসসি (ভোকেশনাল) ব্যাচের ফলাফল নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের এই পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন শিক্ষার্থী, তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে তাঁদের কেউই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও প্রথম ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

গত শনিবার উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে এই চিত্র সামনে আসে। দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ১৩ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ট্রেডের এবং একজন ছিলেন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের শিক্ষার্থী।

কলেজ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে এখানে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্সে পাঠদান শুরু হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালে এইচএসসি (ভোকেশনাল) স্তরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে, বর্তমানে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৭৩ জন। এখানে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে অনুমোদিত মোট জনবলের সংখ্যা ৬৪ জন। এর মধ্যে শিক্ষকের পদ নির্ধারিত ৪৬টি এবং কর্মচারীর পদ ১৮টি। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন শিক্ষক এবং ৬ জন কর্মচারী। অর্থাৎ, মোট পদের মধ্যে ৪৩টি পদই বর্তমানে শূন্য পড়ে আছে, যার মধ্যে শুধু শিক্ষক পদের শূন্যতা ৩১টি।

ভৌত অবকাঠামোর দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচতলা ও চারতলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র অভাব থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় চরম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. মোস্তফা কামাল। ফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে তিনি মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ফল বিপর্যয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হলো শিক্ষকসংকট। এ ছাড়া এখানে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবারগুলো অর্থিক সংকটে থাকে। এ জন্য অনেক শিক্ষার্থীই ভর্তি হওয়ার পর ঢাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতে যায়। এই বিষয়ও ফল বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।”

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি শুনেছেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করানোর চেষ্টা করবেন তিনি।