মাসিক ২১ হাজার ২৬৯ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা পাওয়া সত্ত্বেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে নিয়মিত রাত কাটাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যে কক্ষটিতে তিনি অবস্থান করছেন, তার বাইরের নেমপ্লেটে লেখা রয়েছে ‘স্কাউট রুম-রোভার ডেন’। গত ২১ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। তবে প্রশাসনিক ভবনের এই কক্ষে থাকার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি তার কাছে আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ওই অধ্যক্ষ।

মোস্তফা কামালের দাবি, প্রতিষ্ঠানের সামগ্রী চুরি প্রতিরোধ করার লক্ষ্যেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তবে এই যুক্তির বিপরীতে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের পর ডান পাশের ভবনেই নৈশপ্রহরীর থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। এই বাস্তবতায়, প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের বাড়ি ভাড়া ভাতা পাওয়ার পরও প্রশাসনিক ভবনের কক্ষে অধ্যক্ষের নিয়মিত রাত্রিযাপনের বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলায় ৪০৭ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন অধ্যক্ষ। চুক্তিভিত্তিক গেটম্যান মাহমুদুল রশিদ মামুন মূল ফটকের তালা খুলে দেওয়ার পর ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিবেদক দল। গেটম্যানকে সঙ্গে নিয়ে যখন কক্ষটির সামনে যাওয়া হয়, তখন দরজার বাইরে ‘স্কাউট রুম-রোভার ডেন’ লেখা নেমপ্লেটটি চোখে পড়ে। দরজায় কড়া নাড়লে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল।

কক্ষটির ভেতরে একটি চৌকি, টেবিল, কেবিনেট এবং কিছু পোশাক রাখা ছিল। এ সময় অধ্যক্ষ স্বীকার করেন যে, মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত ওই কক্ষটিতেই থাকছেন। তবে তিনি পুনরায় জানান, প্রতিষ্ঠানে চুরি প্রতিরোধের জন্যই সেখানে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

দেবীগঞ্জ ও বানিয়াচং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সূত্র অনুযায়ী, মোস্তফা কামাল প্রথমে হবিগঞ্জের বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তাকে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে সংযুক্ত করা হয়।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী, ষষ্ঠ গ্রেডে পদায়নপ্রাপ্ত মোস্তফা কামালের বর্তমান মূল বেতন ৬০ হাজার ৭৭০ টাকা। এই বেতনের ৩৫ শতাংশ হিসেবে তার মাসিক বাড়ি ভাড়া ভাতা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৬৯ টাকা। সেই হিসেবে বছরে তিনি এই খাতে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ২২৮ টাকা পান।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিজীবীদের আবাসন ব্যয় নির্বাহের জন্যই বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রদান করা হয়। এই অবস্থায় মাসে ২১ হাজার টাকার বেশি ভাতা পাওয়া সত্ত্বেও অধ্যক্ষের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষে রাত্রিযাপনের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের ধারণা, বাড়ি ভাড়ার টাকা সাশ্রয় করতেই তিনি সরকারি কক্ষটি ব্যবহার করছেন। তবে এই বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) খন্দকার মো. নাহিদ হাসান জানান, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ওনার সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি দ্রুতই বাইরে বাসা ভাড়া নিবেন বলে জানিয়েছেন।”