প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের একটি লাইভ ভিডিওতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য বড় অশনিসংকেত হিসেবে অভিহিত করেছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।

রোববার (১ নভেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জেজেইউ।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, সংবাদপত্রের প্রকাশিত কোনো সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে যে কারও দ্বিমত বা আপত্তি থাকতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সেই দ্বিমত প্রকাশ করা, সমালোচনা করা এবং প্রতিবাদের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সংগঠনটি মনে করে, রাশেদ খানের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত একজন ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাটি একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দ্বিমত থাকলে তা যুক্তি, সঠিক তথ্য এবং পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করার সুযোগ সব সময়ই রয়েছে। একইভাবে, সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকারও সবার আছে। তবে কোনো পক্ষেরই এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করে তোলে।

জেজেইউ-এর মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে এই নয় যে তারা সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবে; বরং এর অর্থ হলো স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ, মতামত তুলে ধরা এবং সমালোচনার জবাব দেওয়ার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের যেমন দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রের উচ্চপদে আসীন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশা করা হয়।

সংগঠনটি আরও মনে করে যে, গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনের কারণে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকারের জন্য যদি শক্তিশালী ও কার্যকর মাধ্যম থাকত, তবে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সর্বজনগৃহীত এবং শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানিয়েছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি।

এর পাশাপাশি, সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে জেজেইউ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা চায় প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যেন ভয়ভীতি, হামলা কিংবা চাপের মুখে পড়ে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করে সংগঠনটি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিশেষে, জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ) সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেছে।