নওগাঁয় বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত পৃথক অভিযানে হারিয়ে যাওয়া ৫১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সেগুলোর প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। একই সাথে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৪ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে এবং ভ্যান চুরি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব সাফল্যের কথা জানান।
পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মান্দা উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায় আরিফ হোসেনের বাড়িতে মাদকের বড় ধরনের চালান মজুত রয়েছে বলে গোপন খবর পায় পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্টিলের ট্রাংক থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ৩০ বছর বয়সী আরিফ হোসেনকে আটক করা হয়। এরপর আরিফ হোসেনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নওগাঁ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী মোশাররফকে আটক করা হয়, যার কাছ থেকে আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মহাদেবপুর ও বদলগাছী থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ২৩ বছর বয়সী শিলং ও ২৩ বছর বয়সী আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এভাবে মোট চারটি অভিযানে পুলিশ সর্বমোট ২৪ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে।
ভ্যান চুরি চক্রের বিষয়ে পুলিশ জানায়, গত ২৬ নভেম্বর বাহাদুর নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, মধু বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রতারক চক্র নওগাঁ শহরের গোস্তহাটি এলাকা থেকে তার একমাত্র আয়ের উৎস ভ্যানটি ভাড়া নেয়। এরপর চালককে কৌশলে সরিয়ে তারা ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে নাটোর থেকে চোরাই ভ্যানটি উদ্ধার করে এবং চক্রের মূলহোতা ৪৮ বছর বয়সী মো. সালাম ও তার ছেলে মো. নয়নকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, গত এক মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত মোট ৫১৭টি হারানো বা মিসিং মোবাইল উদ্ধার করে তা প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূল এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপারের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।