বরিশালের বাকেরগঞ্জে কবাই ও দুধল ইউনিয়নের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সেতুর বিভিন্ন অংশের ঢালাই ভেঙে খালের পানিতে পড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সেখানে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। চরম ভোগান্তি আর ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশের ওপর তৈরি করা অস্থায়ী কাঠের মাচা ব্যবহার করে পারাপার হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন দুই পাড়ের স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীরা। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকলেও সেতুটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে জানা গেছে, কবাই ইউনিয়নের কুন্ডের হাট বাজার সংলগ্ন একটি খালের ওপর এই সেতুটি নির্মিত। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ ফুট। দুই ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে এই সেতুটি ব্যবহৃত হতো। তবে দীর্ঘ সময় ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না করায় সেতুর বিভিন্ন স্থানের সিমেন্টের ঢালাই ভেঙে খালের ভেতর পড়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং পথচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাঠের মাচা দিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন।
সেতুটির কবাই প্রান্তে অবস্থিত পশ্চিম শিয়ালগুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুধল প্রান্তে অবস্থিত পূর্ব গোমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অসতর্কতার কারণে ভাঙা অংশ দিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এলাকার বাসিন্দা শংকর কুন্ড বলেন, “সেতুটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাটবাজারে নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় মাথায় করে পণ্য বহন করতে হয়। সেতুটির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষক ও শিক্ষার্থীরা।”
অন্যদিকে, গৃহবধূ শেফালি বেগম তার উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কখন যে সেতু থেকে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় কাজ করে। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব হয় না। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সেতুটি এই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি। তারা জানান, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার মেলেনি। দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এই বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ জানান, “ভাঙা সেতুটির বিষয়ে কয়েকটি প্রকল্পের তালিকায় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ ও সেতু নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”