বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তৈরিপোশাক খাতের শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে বিঘ্নিত হয়েছে মেট্রোরেলের স্বাভাবিক চলাচল। এই উত্তেজনার কারণে মিরপুরের তিনটি স্টেশন বেশ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। তবে দুপুর ২টার দিকে মেট্রোরেলের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে ফিরে আসে।

রাজধানীর মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর সূত্র অনুযায়ী, আন্দোলনের এক পর্যায়ে স্টেশনের নিচের সড়কে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে মিরপুর–১০ নম্বর স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই স্টেশনে প্রবেশ ও বাহিরের সকল গেট বন্ধ রাখা হয় এবং সেখানে কোনো ট্রেন থামানো হয়নি। তবে উল্লেখ্য যে, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের সামগ্রিক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

পরবর্তীতে বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে কাজীপাড়া স্টেশনের গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেখানেও ট্রেন থামানো বন্ধ থাকে। এরপর দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে পল্লবী স্টেশনে ট্রেন থামানো বন্ধ হয়ে যায় এবং ওই স্টেশনের গেটগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে যাত্রীদের উঠা-নামা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

ডিএমটিসিএল সূত্র আরও জানিয়েছে, পোশাকশ্রমিকদের এই আন্দোলন এক পর্যায়ে সংঘর্ষের রূপ নেয়। আন্দোলনের চলাকালীন স্টেশনের নিচে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে। এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে মেট্রোরেল পুলিশ নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে ট্রেন থামানো বন্ধ করার সুপারিশ করে। পুলিশের এই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ স্টেশনগুলোর গেট বন্ধ করে দেয় এবং ট্রেনগুলো ওই স্টেশনগুলোতে না থামিয়েই চলাচল করে। ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়াটিকে স্টেশন ‘স্কিপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিষয়টি নিয়ে ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঝুঁকি বিবেচনায় তিনটি স্টেশনে ট্রেন ‘স্কিপ’ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্টেশনগুলো চালু করা হয়েছে। দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে মেট্রোরেলের চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। সবগুলো স্টেশন খুলে দেওয়া হয়েছে। ট্রেনও থামছে সব স্টেশনে।”