দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে চারটি নির্দিষ্ট খাতের সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ যে ব্যতিক্রমী সুযোগ প্রদান করেছে, সেই অতিরিক্ত তিন বছরকে সংস্কারের উপযুক্ত সময় হিসেবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের জন্য সংস্কারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংস্কার সম্পন্ন না হলে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।’
তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন যে, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরবরাহব্যবস্থা—এই চারটি খাতের সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এই খাতগুলোতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে তৈরি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
নিজের এক প্রবন্ধে তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এই চার খাতের সংস্কারগুলো যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে উত্তরণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উত্তরণের জন্য আরও তিন বছর সময় দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে তিনি একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং গবেষণা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।