গতকাল শনিবার জার্মানিজুড়ে জেন-জিদের একটি সংগঠনের আহ্বানে আয়োজিত বিক্ষোভে হাজার হাজার তরুণের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। দিনের অধিকাংশ সময় এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হলেও সন্ধ্যার পর দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই সংঘাতের ফলে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বোতল ও পটকা নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

দ্য জাইট পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেল পুলিশ শাখার চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়াস রসকপ্ফ রাইনিশে পোস্ট পত্রিকাকে বলেছেন, “জেন-জিদের বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল।” তবে তিনি আরও জানান যে, মূল কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ, বার্লিন, স্টুটগার্ট ও কোলন শহরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

আন্দ্রেয়াস রসকপ্ফ-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে ‘উগ্র বামপন্থী ও মুখোশধারী ব্যক্তিরা’ ছিলেন। ভবিষ্যতে আরও সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

হামবুর্গের প্রধান রেলস্টেশনের নিকটবর্তী স্টাইনডাম এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একটি দল পুলিশের দিকে পটকা, আতশবাজি ও বোতল ছুড়ে মারে। এসময় কয়েকজন ব্যক্তি নির্মাণস্থলের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে রাস্তায় ফেলে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ নিয়ে অভিযান চালানো হয় এবং পুলিশ দুটি জলকামান ব্যবহার করে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ফ্রাঙ্কফুর্টে কয়েক ঘণ্টা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলার পর কনস্টাবলারভাখে এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে পটকা নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সেখানে জলকামান মোতায়েন করে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে প্রায় আট হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, স্টুটগার্টেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোলন শহরে মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি আতশবাজি পোড়ানোর চেষ্টা করলে মিছিলের শুরুতেই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এছাড়া ব্রেমেনে পুলিশ সদস্যদের ওপর বিক্ষোভকারীদের ঘুষি ও লাথি মারার খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানী বার্লিনের ব্রান্ডনবুর্গ গেট এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে রোজেনথালার প্লাৎজ হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেনৎসলাউয়ার বের্গের দিকে এগিয়ে যায়। এই মিছিলে আন্তর্জাতিক সংহতি এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো স্লোগান শোনা যায়।

কার্লসরুহ শহরে প্রায় দুই হাজার মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। সেখানে ডানপন্থী মতাদর্শের প্রায় ১০০ জনের একটি দলকে বিক্ষোভকারীদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখে পুলিশ।

নুরেমবার্গে পটকা নিক্ষেপের ঘটনায় একজন বিক্ষোভকারী আহত হন। ওই শহরে প্রায় দুই হাজার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন। এরফুর্টে প্রায় এক হাজার ৯০০ মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচনের বিরোধিতা এবং সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশও ছিল তাদের দাবির অন্যতম প্রধান বিষয়।

বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘জেন–জি রেগেল্ট’ জানিয়েছে, জার্মানির বিভিন্ন শহরে মোট ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি, অধিকাংশ শহরেই কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ছিল।

তবে জার্মানিজুড়ে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট কত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।