কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে রাতের অন্ধকারে বস্তাবন্দি মরা মুরগি ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অমানবিক ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি পচা মুরগির তীব্র দুর্গন্ধে নদীপাড়ের হাজার হাজার বাসিন্দা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্য নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট চক্র রাতের আঁধারে পিকআপ ভ্যানে করে বস্তাবন্দি মরা মুরগি বয়ে এনে নদীতে ফেলে যাচ্ছে। জানা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর চিলপাড়া ব্রিজ থেকে শুরু করে ফুলের নাওড়ী, হুগলি দিঘির পাড় এবং পরিকোট রেলব্রিজ-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় এসব মরা মুরগি ফেলা হচ্ছে। নদীতে পড়ে থাকা এই মুরগিগুলো পচনের ফলে চারপাশের পরিবেশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর পানি ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগের সাথে জানান যে, নিয়মিতভাবে এভাবে মরা মুরগি ফেলার কারণে নদীর পরিবেশ ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। পচনশীল বর্জ্যের প্রভাবে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি নদীর মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া মৃত মুরগির মাধ্যমে কোনো সংক্রামক রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

ডাকাতিয়া নদীর পাশের ফুলের নাওড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. সাদেক, মো. মীর হোসেন ও মো. শহিদ এবং হুগলি দিঘির পাড়ের মো. আলমগীর, মো. জালাল, দোকানি মো. বাচ্চু ও মো. আবদুল মমিনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এভাবে নদীতে মরা মুরগি ফেলছেন। রাতের অন্ধকারে কারা এই ঘৃণ্য কাজ করছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আক্রান্ত এলাকার মানুষের দাবি, নদীতে ফেলা মরা মুরগিগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি নদীর পানির দূষণ পরিস্থিতি পরীক্ষা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে নদীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

গুণবতী ইউনিয়নের ফুলের নাওড়ী গ্রামের বাসিন্দা এয়াকুব মজুমদার বলেন, “গতকাল সকালে ডাকাতিয়া নদীতে বস্তাভর্তি মরা মুরগি দেখতে পাই। এভাবে নদীতে মরা মুরগি ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ডাকাতিয়া নদীর দূষণ রোধে চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এই বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, ‘ডাকাতিয়া নদীতে মরা মুরগি ফেলার অভিযোগ শুনেছি। সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সালমান চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “নদীতে পরিবেশগত কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে বিস্তারিত দেখে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।”