রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া খানকা শরীফের রান্নাঘরে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় প্রধান বাবুর্চির পর তার সহকারীরও মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সোনাভান বিবি (৭০)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে দুজনে।
মৃত সোনাভান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর সিদ্দিক কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া খানকা শরীফ ও মাদ্রাসার রান্নাঘরে আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় প্রধান বাবুর্চি মো. ফজের আলী (৭০) এবং তার সহকারী সোনাভান বিবি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ফজের আলীর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি খানকা শরীফের রান্নাঘরে এসে খাবার চান। তবে খাবার পরিবেশন করতে কিছুটা দেরি হওয়ায় ওই ব্যক্তি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি রান্নাঘরে থাকা একটি লাঠি দিয়ে ফজের আলী ও সোনাভান বিবিকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে দুজনই মারাত্মকভাবে আহত হন।
আহতদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এরপর তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই ফজের আলীর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, সোনাভান বিবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. রোমেল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, হামলার পর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করে। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। তার পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।