রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার এবং ৮৫ জনকে আটকের ঘটনায় পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই বাড়ির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবন থেকে মাদক উদ্ধার এবং ৮৫ জনকে আটকের এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। একই সাথে এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, “তাঁর এ কর্মকাণ্ডকে শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলাপরিপন্থী বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।” এই ধরনের গুরুতর কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের শাস্তিযোগ্য অপরাধে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিবিধির নিয়ম অনুযায়ী এখন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে। এরপর যথাযথ তদন্ত এবং শুনানির প্রক্রিয়া চলবে। তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তাঁকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।

ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ভাটারা থানা এলাকার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ‘গোল্ডেন সানরাইজ’ নামের একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িটি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন হলেও তিনি তা ভাড়া দিয়েছিলেন।

ডিবি পুলিশের ওই অভিযানে বাড়িটি থেকে ৮৫ জনকে আটক করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পরদিন আব্দুল্লাহ আল জহিরকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন। প্রথমে তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় এবং অবশেষে আজ শনিবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হলো।