ইহুদি ও আরব দলগুলোকে নিয়ে জোট সরকার গঠনের সমর্থনে স্থানীয় সময় আজ শনিবার রাতে ইসরায়েলজুড়ে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাতেও বহু মানুষ ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটের বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড–ব্যানার হাতে জড়ো হয়েছিলেন।
ইসরায়েলে ভোটের পর সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিক্ষোভ মিছিলের এ আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি।
স্ট্যান্ডিং টুগেদার নামের একটি গোষ্ঠী আজকের বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। তাদের দাবি, আরবদের ভোটের মূল্য ইহুদিদের ভোটের সমান। আরব নাগরিকদেরও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পূর্ণ অংশীদার হতে দিতে হবে।
পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া ইহুদি-আরব সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিফলন পরবর্তী সরকারেও থাকতে হবে। এখন আমাদের অংশীদারত্ব থেকে সরে যাওয়ার সময় নয়; বরং এটিকে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার সময়, যা বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটাবে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর এমন (ইহুদি–আরব জোট) একটি সরকার গঠনের দাবিতে আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ার, জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার, পাশাপাশি বীরশেবা, হাইফা ও তাইবেতে তারা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে।
এবারের ভোটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে কট্টর ডানপন্থী ইহুদি দলগুলোর ক্ষমতাসীন জোট ৫৩টি আসনে জয় পেয়েছে। বিপরীতে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। ইহুদিদের নেতৃত্বে থাকা দলগুলোর এ জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’ নামে পরিচিত। এ ব্লকের চারটি দল হলো গাদি আইজেনকটের ইয়াশার, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের বি’ইয়াচাদ, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু।
আরবদের নেতৃত্বে থাকা দুই দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম যথাক্রমে ১১টি ও ৮টি আসনে জিতেছে। অর্থাৎ নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের চেয়ে এবার নেতানিয়াহুর বিরোধীরা বেশি আসন (৬৭) পেয়েছে।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠন করতে ৬১ আসন প্রয়োজন।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগে ইহুদি দলগুলো বলেছিল, তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের জোটে যাবে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আরব দলগুলো প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে।
সমাবেশের আয়োজকেরা বলেন, বিক্ষোভকারীদের দাবি, জোটের নেতারা তাঁদের বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়ে ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সরকার গঠন করুক।
আয়োজকেরা আরও বলেন, ‘পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া ইহুদি-আরব সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিফলন পরবর্তী সরকারেও থাকতে হবে। এখন আমাদের অংশীদারত্ব থেকে সরে যাওয়ার সময় নয়; বরং এটিকে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার সময়, যা বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটাবে।’
ইসরায়েলে আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তবে চূড়ান্ত ফল এরই মধ্যে হাতে এসে যাওয়ায় জোট সরকার গঠের জন্য দর–কষাকষি শুরু হয়ে গেছে।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগে ইহুদি দলগুলো বলেছিল, তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের জোটে যাবে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আরব দলগুলো প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছে।
গতকাল শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে চেঞ্জ ব্লকের সদস্য দ্য ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান বলেছেন, বৃহস্পতিবার তিনি ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদের নেতা ইয়ার লাপিদ এবং রাআমের প্রধান মানসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের তিনজনের মধ্যেই সরকার গঠনের ব্যাপারে গভীর প্রত্যয় দেখেছেন তিনি।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে নিয়ে কোনো ঐক্যের সরকার গঠনের ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইয়ার গোলান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এমন সম্ভাবনা একেবারেই নেই। এমন হলে সেটি হবে নেতানিয়াহুর আরেকটি সরকার…তিনি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
যদিও বিরোধী জোটের অংশীদার ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এখনো আরবদের সঙ্গে কোনো জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছেন।
ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্ট শুরু হবে ১০ নভেম্বর। সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চললেও সেদিনই নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হবে। ‘চেঞ্জ ব্লক’ সেদিনই পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে দিতে চায়। লিকুদ পার্টির নেতা ওহানা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠজন।
এ বিষয়ে গোলান বলেন, ‘নেসেটের সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর আমরা প্রথমেই যা করব, তা হলো নতুন স্পিকার নিয়োগ। এরপর পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটির প্রধানদের নিয়োগ দেওয়া হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি বলেন, ওহানাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে নতুন স্পিকার হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।