বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে গিয়েছেলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এক তরুণী এবং তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন তারা। ওই তরুণীকে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাহসিফের বান্ধবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)।
সিসিটিভি ফুটেজের বিবরণ জানিয়ে টিবিএস জানায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে যান তাহসিফ ও তার বান্ধবী। তারা একটি মোটরসাইকেলে এসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ। মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে চলে যান।
আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটে উঠছেন। এ সময় তারা দীপের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর আবার মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, পরে তাহসিফ সাউরির বান্ধবীকে তার বাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়।
তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের চলাচল ও বিভিন্ন স্থানে তার অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।
এদিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের আবেদনে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্যদের শনাক্ত, হত্যায় ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনাস্থল চিহ্নিত করার জন্য দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।