দীর্ঘদিন বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর এই বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা ‘পলায়ন’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বিস্তারিত জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন অর রশীদ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং ওই তারিখ থেকেই তাঁর চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত ছিলেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ ডিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় এবং ই–মেইলের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি এবং জবাব দেওয়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত সময়ও চাননি।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২২ জুন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৬ আগস্ট জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০ আগস্ট তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, যার কোনো জবাব দেননি হারুন অর রশীদ।

তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত জানতে চায় সরকার। ১ অক্টোবর কমিশন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন ও পিএসসির মতামত পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন প্রদান করেন।

হারুন অর রশীদের পাশাপাশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে আরও সাতজন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, ডিএমপির সহকারী মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার ফারহানা তাসকিন।

প্রজ্ঞাপনে তাঁদের বরখাস্তের কারণ হিসেবে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অসদাচরণ এবং দেশের বাইরে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফিরে না আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, যাকে প্রজ্ঞাপনে অসদাচরণের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।