সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এবং ডিএমপির আলোচিত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাকে সরকারি চাকরিবিধির আওতায় ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করে তার বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর ধরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত জানানো হয়, মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ (বিপি-৭৪০১১১৯৭৫৩) একজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে আর যোগ দেননি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ০০৫/২০২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব প্রদান করেননি এবং সময় বাড়ানোর জন্য কোনো আবেদনও করেননি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২২ জুন একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ৬ আগস্ট দাখিল করা প্রতিবেদনে মতামত দেওয়া হয় যে, তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
এরপর ২০ আগস্ট তাকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরবর্তীতে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন গত ১ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পক্ষে তাদের মতামত প্রদান করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছেন। এতে বলা হয়েছে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।