দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম সিটি ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ৮৬৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই মুনাফার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৭২২ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে সিটি ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে ১৪৫ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসেবে ২০ শতাংশের বেশি। উল্লেখ্য, গত বছর শেষে ব্যাংকটি মোট ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় চলতি বছরের তিন প্রান্তিকের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন থেকেই মুনাফার বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আগামী রোববার দেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই মুনাফার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সিটি ব্যাংক।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির এই মুনাফা অর্জনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে আসা আয়। এক বছরের ব্যবধানে এই খাত থেকে ব্যাংকটির আয় বেড়েছে ২২৭ কোটি টাকা বা ৮ শতাংশের বেশি। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড থেকে ব্যাংকটি মোট ৩ হাজার ২ কোটি টাকা আয় করেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।

সরকারি বিল-বন্ড থেকে আয়ের পাশাপাশি ব্যাংকটির প্রকৃত সুদ আয়েও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিটি ব্যাংকের প্রকৃত সুদ আয় দাঁড়িয়েছে ৩২৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রকৃত সুদ আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মূলত ঋণের সুদ বাবদ আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণের সুদ বাবদ ব্যাংকটি আয় করেছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ২৬ কোটি টাকা। ফলে ঋণের সুদ বাবদ আয় বেড়েছে ২২৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ঋণের সুদ বাবদ আয় যে হারে বেড়েছে, আমানতের সুদ বাবদ খরচ সে তুলনায় অনেক কম বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে আমানতকারীদের সুদ বাবদ ব্যাংকটি পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই খরচের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আমানতের সুদ বাবদ খরচ বেড়েছে মাত্র ৭৪ কোটি টাকা।

আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি ব্যাংকের মূলধন ও সম্পদ কাঠামোতে লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংকের সমন্বিত মোট সম্পদ ছিল ৮৪ হাজার ৭২০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮ কোটি টাকায়। আমানতের ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধি এসেছে; গত বছরের ডিসেম্বরে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৭ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।

ঋণ ও অগ্রিমের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। গত ডিসেম্বর শেষে সিটি ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকায়। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য ছিল ৩৫ টাকা ৩৭ পয়সা, যা সেপ্টেম্বর শেষে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৫১ পয়সায়।