জয়ের জন্য শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জয় প্রায় নিশ্চিত মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব হিসাব উল্টে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার জোরিখ ফন স্কাল্কউইক। টানা তিন বলে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিলেন তিনি। এর আগে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ বলের নাটকীয়তায় এক উইকেটের ব্যবধানে হার মেনে নিতে হলো আবু হায়দার রনির নেতৃত্বাধীন দলকে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) হংকংয়ের মং ককের মিশন রোড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টের বোল পর্বের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি লড়াই করে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ছয় ওভারের এই ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ১২৯ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে নির্ধারিত ছয় ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে প্রোটিয়ারা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আবদুল্লাহ বায়ুমি ও স্টিভ স্টলককে সাজঘরে ফেরত পাঠান রিজওয়ান চৌধুরী। দলীয় ২০ রানে দুই উইকেট হারালেও অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান স্কাল্কউইক।

এরপর আবু হায়দার রনির করা বলে ৫ বলে ১৭ রান করা ব্লেক সিম্পসন বিদায় নিলে দক্ষিণ আফ্রিকা আরও চাপে পড়ে। তবে স্কাল্কউইক একাই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন। মাত্র ১৩ বলে ৫৩ রান করে সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়েন তিনি। উল্লেখ্য, হংকং সিক্সেসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার ৫০ রান পূর্ণ করলে তাঁকে অবসর নিতে হয় এবং দলের অন্য ব্যাটাররা আউট হলে তিনি পুনরায় ব্যাট করার সুযোগ পান।

স্কাল্কউইক মাঠ ছাড়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ঝড় তোলেন অধিনায়ক আয়াবুলেলা গকামানে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অধিনায়ক রনির করা পঞ্চম ওভারে তিনি টানা চারটি ছক্কা হাঁকান। যদিও ওভারের শেষ বলে তাঁকে বোল্ড করে কিছুটা স্বস্তি ফেরান রনি। গকামানে ৭ বলে পাঁচ ছক্কায় ৩০ রান সংগ্রহ করেন।

পাঁচ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১০৯ রান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে নেন আহরার আমিন। প্রথম বলে এক রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে চার মারেন স্কাল্কউইক। তৃতীয় বলে কোনো রান নিতে পারেননি তিনি। ফলে শেষ তিন বলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন দাঁড়ায় ১৬ রান।

সেখান থেকেই শুরু হয় অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা। চতুর্থ বলে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান স্কাল্কউইক। পঞ্চম বলটিও উড়িয়ে মারেন লং অনের ওপর দিয়ে। শেষ বলে জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল পাঁচ রান। আহরারের শেষ ডেলিভারিটি ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন স্কাল্কউইক।

মাত্র ২০ বলে অপরাজিত ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটার। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা ও তিনটি চার। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন হাবিবুর রহমান সোহান। প্রথম দুই ওভারেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে সুবিধা করতে পারেননি অভিজ্ঞ সাব্বির রহমান। ৬ বলে এক ছক্কায় ৭ রান করে দলীয় ৫২ রানে বিদায় নেন সাব্বির।

সাব্বির ফিরে গেলেও থামেননি সোহান। মাত্র ১৩ বলে ৫৪ রান তুলে সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়েন তিনি। বিশেষ করে চতুর্থ ওভারে ব্লেক সিম্পসনের প্রথম দুই বলে টানা ছক্কা হাঁকান সোহান। এরপর ক্রিজে এসে সিম্পসনের বাকি চার বলেই চারটি ছক্কা হাঁকান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

দুই ব্যাটারের এই তাণ্ডবে এক ওভারে ৩৬ রান পায় বাংলাদেশ। এখানেই শেষ নয়, পরের ওভারের প্রথম বলেও ছক্কা হাঁকান অধিনায়ক আবু হায়দার রনি। ফলে টানা সাত বলে সাতটি ছক্কা হাঁকানোর নজির গড়েন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

মাত্র ৬ বলে চার ছক্কায় ২৬ রান করে রানআউট হন মৃত্যুঞ্জয়। এরপর আবারও ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের সংগ্রহ ৬০ রানে নিয়ে যান সোহান। ১৪ বলের অপরাজিত ইনিংসে আটটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন তিনি। অন্যদিকে রনি ১০ বলে তিন ছক্কা ও দুই চারে অপরাজিত ২৮ রান করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় সংগ্রহ গড়েও শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। এর আগে গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের কাছে দুই উইকেটে এবং শ্রীলঙ্কার কাছে এক উইকেটে হেরেছিল তারা। এবার বোল সেমিফাইনালেও এক উইকেটে হেরে টানা তৃতীয় পরাজয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ।