নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছোড়া টেঁটা বুকে বিদ্ধ হয়ে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামের এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আরও তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার খাতে সালেঙ্গা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন ওই গ্রামের আবুল হাসেমের পুত্র। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং পাশাপাশি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খাতে সালেঙ্গা গ্রামের জামাল মিয়া এবং তাঁর প্রতিবেশী হক্কা মিয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জানা গেছে, হক্কা মিয়ার ছেলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে চার-পাঁচ মাস আগে জামাল মিয়া তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এই আইনি লড়াইয়ের ফলে দুই পক্ষের মধ্যকার তিক্ততা আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। সম্প্রতি এই বিরোধের নতুন মোড় আসে যখন হক্কা মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তোলেন।
এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যানুসারে, গতকাল সন্ধ্যায় মাদক ব্যবসা ও পুরনো বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ঝগড়া শুরু হলে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের শান্ত করেন। তবে শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাত ৯টার দিকে হক্কা মিয়া ও তাঁর লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান জামাল মিয়া ও তাঁর পক্ষের লোকজন। এই সংঘর্ষ চলাকালীন প্রতিপক্ষের ছোড়া একটি টেঁটা সরাসরি বুকে বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন হক্কা মিয়ার চাচাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন। একই ঘটনায় তাঁর আরেক চাচাতো ভাই দূরবীন মিয়া, আজাহার উদ্দিন এবং হাদিস মিয়াও আহত হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদ্দাম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি তিন ব্যক্তি বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এম এস এস মাটি বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই বুকে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।”
আহত দূরবীন মিয়া অভিযোগ করে বলেন যে, জামাল মিয়া ও তাঁর লোকজন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, “এসব কাজে বাধা দেওয়ায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিপক্ষের টেঁটার আঘাতে তাঁর চাচাতো ভাই সাদ্দাম নিহত হয়েছেন।” এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জামাল মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন। তবে তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আক্কেব আলী নামের একজনকে থানায় আনা হয়েছে।”