বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেছেন যে, দেশের সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কারের পথেই জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত অর্জনগুলো ঘরে তোলা সম্ভব হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এক উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংবিধান সংস্কারসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সূচনা করা হয়।

সমাবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “জুলাই বিপ্লবের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের কথা বারবার পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় কার্যকর করার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকার জনগণের এই রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে প্রস্তুত নয়। নানা ধরনের কথাবার্তার মাধ্যমে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি তাদের রায়কে অসম্মান করছে।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একই সাথে দুটি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। একটি ছিল সরকার গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোট। মাওলানা মামুনুল হকের দাবি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সরকার ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে, যদিও সেই নির্বাচন নিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নানা অভিযোগ ও প্রমাণ বিদ্যমান। অন্যদিকে, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন পাওয়া গেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, “কথা ছিল, গণভোটের রায় কার্যকর করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের একজন মুখপাত্র গণভোটকে অবৈধ আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছেন। আমরা বারবার বলেছি, একই মায়ের পেটে জন্ম নেওয়া দুই যমজ সন্তানের মধ্যে একটি অবৈধ হলে অন্যটি কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না। একই নির্বাচনি তফসিলের অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোট অবৈধ হলে সংসদ নির্বাচনও বৈধ থাকতে পারে না।”

দেশের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকারগুলো নাগালের বাইরে চলে গেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সারা দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিস্তার ঘটেছে এবং প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। মাওলানা মামুনুল হকের মতে, সংবিধান সংস্কার না করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করাই এসব সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।

পরিশেষে তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্য গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিতে তাদের আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দক্ষিণ জনপদের উদ্দেশ্যে এই ঐতিহাসিক লংমার্চ শুরু করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইনশাআল্লাহ, গোটা দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে গণভোটের রায় কার্যকর এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের ফসল ঘরে তোলা হবে।”