রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে টানা ৯ দিন ধরে চলা সড়ক অবরোধ ১২ ঘণ্টার জন্য শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আগামী রোববার (১ নভেম্বর) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এলাকার সাধারণ মানুষের জরুরি ও মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১ নভেম্বর ১২ ঘণ্টার জন্য সড়ক অবরোধ শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘কঠিন চীবর দান’ নির্বিঘ্নে ও সুন্দরভাবে উদযাপনের সুযোগ করে দিতে আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ১ নভেম্বর নির্ধারিত ১২ ঘণ্টা শেষ হওয়ার পর আগের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবরোধকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি এবং দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার; ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজোবাজারের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ; উজোবাজার থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার; আহত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয় বহন।

এ ছাড়া সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করা এবং তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি না চালানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।