জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় এক বিধবা নারীর বসতঘর ও ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরনের কাপড়টুকু ছাড়া তাঁর আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের উত্তর নওতা গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ওই নারীর নাম নুরজাহান আক্তার (৫৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত রমজানের স্ত্রী। নুরজাহান আক্তারের দুই ছেলে ঢাকায় অবস্থান করেন, যার ফলে তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে প্রতিদিনের মতো বাড়িঘর ঝাড়ু দিয়ে নুরজাহান বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সময় বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর যখন তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন, তখন দেখেন তাঁর ঘরে আগুন জ্বলছে। তাঁর চিৎকার শুনে দ্রুত প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে মাটির প্রলেপ দেওয়া দুই কক্ষের ঘরটি পুরোপুরি পুড়ে যায়।
ঘটনার পর নুরজাহান আক্তার বলেন, “আমার দুই ছেলে ঢাকায় থাকে। বাড়িতে আমি একাই থাকি। সকালে বাড়ি ঝাড়ু দিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি, ঘরে আগুন জ্বলছে। আমার সবকিছু পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে টিনের একচালের ঘরটির আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ঘরের ভেতরে থাকা খাট, বিছানা, চাদর, বালিশসহ নিত্যব্যবহার্য সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের পোড়া অবশিষ্টাংশের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নুরজাহান। বসবাসের একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে তিনি এখন চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরজাহান আক্তার বলেন, “আমার দুই ছেলে ঢাকায় থাকে। বাড়িতে আমি একাই থাকি। সকালে বাড়ি ঝাড়ু দিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি, ঘরে আগুন জ্বলছে। আমার সবকিছু পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান, রায়কালীতে বিধবার বাড়িতে আগুন লাগার বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো সংবাদ আসেনি। তিনি আরও জানান, সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
প্রতিবেশী আবদুল লতিফ বলেন, “বিধবার বাড়িতে আগুন দেখতে পেয়ে আমরা গ্রামবাসী পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করি। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। ততক্ষণে ঘরের সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। ধারণা করছি, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। এমনিতেই নুরজাহান গরিব ও অসহায়। এখন বাড়িঘর হারিয়ে আরও বিপদে পড়েছেন।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য একাব্বর হোসেন জানান, নুরজাহান খুবই অসহায় এবং তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। তিনি আরও বলেন, আগুনে তাঁর সবকিছু পুড়ে গেছে। এই কঠিন অবস্থায় তাঁর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।