রাজধানী ঢাকায় মেয়ের বাসায় থেকে চিকিৎসা শেষ করে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন আতাহার আলী (৭৫)। চার দিন পর পুনরায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা না করে গতকাল শুক্রবার রাতে নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আজ শনিবার ভোরে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি রেলসেতুর ওপর ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

আক্কেলপুর মহিলা কলেজের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ২৭৬ নম্বর রেলসেতুর ওপর থেকে আজ ভোরে আতাহার আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আক্কেলপুর উপজেলার কানুপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

আতাহার আলীর মেয়ে আকলিমা খাতুন মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “তাঁর মা-বাবা দুজনই অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তাঁরা ঢাকায় তাঁর বাসায় এসেছিলেন। দুজনকেই চিকিৎসক দেখানো হয়েছিল। চার দিন পর আবার বাবাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাকে রেখে বাবা জেদ করে শুক্রবার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। আজ সকালে বাবার ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁর বাবা কানে খুব কম শুনতে পেতেন।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ট্রেন থেকে আক্কেলপুর রেলস্টেশনে নেমে রেললাইন ধরে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন আতাহার আলী। ধারণা করা হচ্ছে, পথে মহিলা কলেজের দক্ষিণ পাশের রেলসেতুটি পার হওয়ার সময় তিনি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন।

আজ সকালে স্থানীয় লোকজন হাঁটতে বের হয়ে সেতুর ওপর আতাহারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু সাঈদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি আজ ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আক্কেলপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। ওই ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।”

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”