তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘সমাজবিরোধী’ ও ‘বিজ্ঞানবহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক এই দাবি উত্থাপন করেন।
বিবৃতিতে শাহ ইফতেখার তারিক উল্লেখ করেন, “প্রকৃত হিজড়ারা আমাদের সমাজেরই অংশ। তবে যারা বিকৃত মানসিকতা লালন করেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক ও মানসিক বিকৃতি সাধন করেন, তাদেরকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডার এক বিষয় নয়; ট্রান্সজেন্ডার একটি ভয়াবহ বিকৃতি।”
ট্রান্সজেন্ডারের ধারণাটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানবহির্ভূত, খামখেয়ালিপূর্ণ এবং মানবসভ্যতার বিকাশবিরোধী বলে মন্তব্য করে তিনি সতর্ক করেন যে, এর ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা চরমভাবে ভেঙে পড়বে। তিনি আরও বলেন, “ইসলামসহ পৃথিবীর সব ধর্ম এবং প্রাচ্য সমাজ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি পশ্চিমেও এর বিরুদ্ধে গণরোষ তৈরি হয়েছে। সারা বিশ্বে প্রত্যাখ্যাত এই ধারণাকে উৎসাহিত করে শিক্ষামন্ত্রীর সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।”
শিক্ষামন্ত্রীর আচরণের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, বিভিন্ন মহলের প্রবল প্রতিবাদের মুখে মন্ত্রী যে যুক্তি দিয়েছেন তা একেবারেই অযৌক্তিক। তিনি বলেন, “সব মহল থেকে প্রবল প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী ভুলক্রমে তৃতীয় লিঙ্গ বলতে গিয়ে ট্রান্সজেন্ডার বলে ফেলার যে উদ্ভট অজুহাত সামনে এনেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয়-চতুর্থ লিঙ্গের ছদ্মাবরণে কোনো প্রকার চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না।”
মন্ত্রীকে অবিলম্বে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, “অন্যথায় মন্ত্রিপরিষদ থেকে তাকে অপসারণ করতে হবে। তার মতো ‘বিকৃতচিন্তার’ মানুষের হাতে দেশের কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার দায়িত্ব থাকা কোনো বিবেচনাতেই নিরাপদ নয়।”