বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২৮ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তৃতীয় লিঙ্গের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রীর এই শব্দচয়ন নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবং নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে এগিয়ে এসেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর ওই বক্তব্যের একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া আমার বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি শব্দের সংশোধন ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে চাই। সেদিনের অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে আমি কথা বলেছিলাম। সমাজে তারা অনেকেই অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন। এসব বাধা পেরিয়ে তাদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই ছিল আমার বক্তব্যের মূল কথা।”
বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, কথা বলার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই এই ভুলটি হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, “বক্তব্যের সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এখানে আমার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।”
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তার বক্তব্যে দেশের সাধারণ মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের কথা গুরুত্ব দিয়ে বলেন। তিনি জানান, “দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ ও তাদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।”