মাত্র সাত বছরের এক শিশু হৃদয়। নওগাঁর ভাণ্ডারপুর গ্রামে প্রথম যখন তাকে দেখা যায়, তখন বোঝা যাচ্ছিল না যে কিছুক্ষণের মধ্যেই সে একটি বিশেষ কৃত্যানুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত হবে। কয়েকজন তার কোমরে লাল শাড়ি পেঁচিয়ে দেয়, মুখে মাখিয়ে দেয় সিঁদুর এবং গলায় পরানো হয় রুদ্রাক্ষের মালা। সানাইয়ের সুর, ঢাক-কাঁসরের তীব্র আওয়াজ আর ধূপের ধোঁয়ার মাঝে হৃদয় নাচতে শুরু করে। তার হাতে থাকে মহিষের শিং ও লাঠি। কখনো বুড়াকালী মন্দিরের মুখাগুলোর সামনে, আবার কখনো সমবেত মানুষের ভিড়ে ছুটে এসে সে নাচতে থাকে। তাকে কেন্দ্র করেই মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ।
হৃদয় ডোম সম্প্রদায়ের সন্তান। স্থানীয় তান্ত্রিক কৃত্যাচারে ডোমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে; সেই উত্তরাধিকার নিয়েই তার অংশগ্রহণ। কিছুক্ষণ আগের সাধারণ গ্রাম্য বালকটি এখন ভক্তদের মনোযোগের কেন্দ্রে। তার নাচ দেখতে দেখতে মনে হয়, প্রাচীন সাধনসংস্কৃতি কী আশ্চর্যভাবে নতুন প্রজন্মের শরীরে আশ্রয় নেয়!
চর্যাপদের গীতধারার পুনর্জাগরণের কাজে প্রায়ই পাহাড়পুর যাওয়া হয়। অথচ সোমপুর মহাবিহারের আশপাশে এমন প্রাণবন্ত কৃত্যমূলক নৃত্যের প্রচলন আগে অজানা ছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নওগাঁর মুখানৃত্যের ছবি ও ভিডিও দেখার পর এই বিষয়ে জানা যায়। সেই সূত্রে পরিচয় হয় বদলগাছী উপজেলার ভাণ্ডারপুর গ্রামের তরুণ শিক্ষার্থী ও পূজারী প্রান্তিক চৌধুরীর সঙ্গে। তাঁর সহযোগিতায় ২৩ ও ২৪ জুন দুই দিন গ্রামটিতে গিয়ে চামুণ্ডাপূজা ও মুখানৃত্য প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হয়।
ভাণ্ডারপুর গ্রামের বুড়াকালী মন্দির প্রাঙ্গণে ঢাকের গভীর আওয়াজ শুনে তার গঠন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে প্রান্তিক চৌধুরী বলেন, “এগুলো মাটির ঢাক। বদলগাছীর বালুভরা গ্রামের কুমারদের কাছ থেকে মাটির খোল এনে গ্রামের মালি সম্প্রদায়ের কারিগরেরা চামড়া ছাইয়ে ঢাক তৈরি করেন। এর নাম ‘জয়ঢাক’, বাদনের নাম ‘বিশালী বাজনা’। এই ঢাকের যে পাশে কাঠির বাড়ি পড়ছে, সেটাতে রয়েছে ছাগীর চামড়া, অন্য পাশে পাঁঠার চামড়া।”
সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ দিকে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার আষাঢ় মাসে কেন করা হলো? চৌধুরী পরিবারের সদস্য সান্ত্বনা রানী জানান, এবার জ্যৈষ্ঠ মাসে দুইবার চাঁদ উঠেছিল, যাকে বলা হয় ‘মলমাস’। হিন্দু সমাজে মলমাসে পূজা বা বিয়ে নিষিদ্ধ। তাই এই মলমাসের কারণে জ্যৈষ্ঠের পূজার সময় পিছিয়ে আষাঢ়ে করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভক্তরা উপবাস রেখে এই পূজায় অংশ নেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট হয় যে, ধর্মীয় বর্ষপঞ্জি ও প্রকৃতির সঙ্গে গ্রামের জীবন ও উৎসবের সময় মাঝেমধ্যে পরিবর্তিত হলেও ঐতিহ্যটি বহমান।
এই ধরনের ঢাকনির্মাতা পরিবারের সদস্য সীমা মালি জানান, তাঁর বাবা, শ্বশুর, স্বামী ও ভাশুর ঢাক তৈরির কাজ করেন। মূলত নিজেদের বাদনের প্রয়োজনেই তাঁরা এই ঢাক বানান। দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী ও সরস্বতীপূজায় এই মাটির ঢাক ব্যবহৃত হয়। তাঁদের বাড়িতে পূর্বপুরুষের আমলের কাঠের ঢাকও রয়েছে, তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে বাজানো হয় কাঠের ঢোল ও কড়কা। এই বাদন মূলত এক ধরনের শিল্পীর কাজ।
এই কারুশিল্পের সঙ্গে ভাণ্ডারপুর গ্রাম পত্তনের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ বছর আগে এই গ্রামের জমিদার রামলোচন চন্দ্র চৌধুরী বিভিন্ন স্থান থেকে কামার, কুমার, পাল, মালাকার, মালি ও ডোমের মতো বিভিন্ন পেশাজীবী জনগোষ্ঠীকে এনে স্থায়ী বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নেন। সেই থেকে আজ অবধি এই গ্রামে প্রায় সব পেশার মানুষের বসবাস। গ্রামের পথে হাঁটলে তার প্রমাণ পাওয়া যায়; একদিকে কামার হাপর টেনে কাজ করছেন, অন্যদিকে প্রতিমাশিল্পী গড়ে তুলছেন মা কালীর প্রতিমা। আর বাদ্যযন্ত্রীরা মন্দিরের সামনে বাদ্য বাজিয়ে পূজার আয়োজন জমিয়ে তুলেছেন। বিভিন্ন পেশার পাশাপাশি এখানে সাঁওতাল ও ওরাওঁ জনগোষ্ঠীর বসতি স্থাপনের ইতিহাসও রয়েছে।
চামুণ্ডা মুখানৃত্যের শিল্পীদের তালিকায় মালি, মালাকার, মণ্ডল ও দাস পরিচয়ের মানুষের উপস্থিতি লক্ষণীয়। তাঁদের পারিবারিক কাজ ও শিক্ষার বিবরণ থেকে বোঝা যায়, গ্রামটির ঐতিহ্য নির্মাণে নানা জনগোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে। কুমারের মাটি, কারিগরের চামড়া ছাওয়ার দক্ষতা, মুখা, পোশাক ও বাদ্যশিল্পীর তালজ্ঞান মিলেই এই নৃত্য সম্ভব হয়। প্রবীণদের পাশাপাশি শিশুরাও ঢাক-কাঁসর বাদনে অংশ নেয় এবং সানাইয়ের সুরে তাদের তাল মেশে।
চৌধুরী পরিবারের কাহিনী অনুযায়ী, ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে নবাব আলীবর্দী খাঁর দরবারে যাওয়ার পথে রামলোচন চন্দ্র চৌধুরী এখানে রাত্রি যাপন করেন। অনুচরেরা মঠসংলগ্ন দিঘির জল তাঁকে পান করায়। স্বপ্নে দেবী জানান, তাঁর জল পান করার ঋণ শোধ করতে হবে। অর্থ নয়, রামলোচন ও তাঁর বংশধরদের সেবা চান তিনি। পরে চারটি মৌজা লাভ করে রামলোচন বসতি ও পূজার ব্যবস্থা করেন। আরেক জনশ্রুতিতে তাঁর চিতায় ব্যবহৃত নিমকাঠ দিয়ে তিনটি চামুণ্ডার মুখা তৈরির কথা উল্লেখ আছে।
সাধারণত চামুণ্ডার মুখানৃত্য শুরু হয় চৌধুরীবাড়ির উঠান থেকে। ঘর থেকে সবচেয়ে প্রাচীন চামুণ্ডা মুখাটি এনে প্রান্তিক চৌধুরী মুখানৃত্যশিল্পীর হাতে তুলে দেন। তিনি মুখাটি পরে সানাইয়ের সুর ও ঢাকের তালে বাড়ির প্রশস্ত উঠানে বিভিন্ন দেহভাঙ্গিমা করে নৃত্য করেন। নৃত্যের শেষে নারীরা মুখাধারী শিল্পীকে দেবীজ্ঞানে শ্রদ্ধা জানান এবং অর্থ নিবেদন করেন। পরে শিল্পী মুখাটি খুলে বুকে নিয়ে মঙ্গলচণ্ডীর থানের দিকে রওনা হলে তাঁর পরিচয় জানতে চাওয়া হয়।
মুখাধারী শিল্পী বলেন, “আমার নাম নিপেন চন্দ্র মালি। প্রায় পঁচিশ বছর ধরে চামুণ্ডা মহামাতাজির চামুণ্ডা খেলা করছি। আমার গুরু বীরেন সন্ন্যাসী ভারতে গিয়ে মারা গেছেন। শিষ্যদের মধ্যে রিপন মালিও এই নৃত্য করেন।” এই মুখানৃত্যের জন্য নিরামিষ ভোজন ও দেবীর জন্মকথা জানার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে তাঁর বিশ্বাসভরা উচ্চারণ, “এটা অতীতে চলেছে, এখনো চলছে, ভবিষ্যতেও চলবে।”
চৌধুরীবাড়ির ষষ্ঠ পুরুষ প্রান্তিক চৌধুরীর ভাষায়, এটি “জাগান মণ্ডপপূজা”। শাস্ত্রীয় বিধি ও স্থানীয় শাবর আচারের সমন্বয়ে দেবী এবং সংশ্লিষ্ট দেবতাদের জাগানো হয়। ঘট স্থাপন ও আবাহনের মাধ্যমে কৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়। স্থানীয় জনশ্রুতি মতে, ভাণ্ডারপুরে চার শতাধিক বছর ধরে এই নৃত্যরীতি চলমান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রামলোচন-পরিবারে ছয় পুরুষের ধারাবাহিকতায় এই পূজা ও ঐতিহ্যের পরিচর্যা চলে আসছে। সেই উত্তরাধিকারের তরুণ প্রতিনিধি প্রান্তিক চৌধুরী। পূর্বপুরুষের কাহিনী বলা থেকে পূজার আয়োজন ও দর্শনার্থীদের সহযোগিতা—সবখানেই তাঁর আন্তরিকতা লক্ষ্য করা যায়। পারিবারিক সেবার সঙ্গে গ্রামের শিল্পী ও ভক্তদের অংশগ্রহণ এই ধারাকে টিকিয়ে রেখেছে।
চৌধুরীবাড়ি থেকে মুখাটি মঙ্গলচণ্ডীর থানে নেওয়া হয়। বাঁশবাগানের মাটির ঘরে পরিচ্ছন্ন বিছানায় সিঁদুররাঙা তিনটি শিলাখণ্ড শায়িত। সামনে চিত্রিত আসনে মুখা স্থাপনের পর একজন নারী তাঁর রক্তিম জিবে তেল-সিঁদুর নিবেদন করেন। ঢাকের সঙ্গে মঙ্গলচণ্ডীর গান শোনা যায়।
বিকেলে মুখাটি বুড়াকালী মন্দিরে এলে বৃহত্তর আয়োজন শুরু হয়। মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে কাঠের মুখা পরে শিশুরা নাচে। তাদের নৃত্য দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে কয়েকজন মুসলিম শিশু-কিশোরের সঙ্গেও পরিচয় হয়। শিশু-কিশোরদের মুখানৃত্যের একপর্যায়ে যুবক ও প্রবীণেরা মুখা পরে নৃত্যে যোগ দেন। তাঁদের প্রত্যেকের এক হাতে অস্ত্র থাকে, আবার কারও কারও এক হাতে অস্ত্রের পাশাপাশি অন্য হাতে ধূপ-ধুনার ধুনঞ্চি দেখা যায়। ধূপের ধোঁয়ার মধ্যে ঢাকের ছন্দে পূজারী শিল্পীদের শরীরের অভিব্যক্তি বদলে যেতে থাকে, মানুষ থেকে প্রত্যেক শিল্পী যেন সত্যিকার চামুণ্ডাদেবীতে রূপান্তরিত হয়ে যান। স্থানীয় লোকজনের ভাষায়, এটা হলো দেবীর ভর, আর এই পর্বকে বলা হয় “ভরণ”। দেবী ভর করলেই ভরণের সূচনা হয়।
পুরুষ শিল্পীরা কোমরে শাড়ি এমনভাবে পেঁচান যে ঘুরলে তা ঘাঘরার মতো ছড়িয়ে পড়ে। কেউ টি-শার্ট পরেন, কেউ ব্লাউজ ও কাপড়ের সাহায্যে দেবীর নারীরূপ ফুটিয়ে তোলেন। কাঠের মুখায় থাকে বিস্ফারিত চোখ, দাঁত, মুকুট ও দীর্ঘ রক্তিম জিব। ঢাকের তালে ও চামুণ্ডাদের তাণ্ডব নৃত্য পুরো মন্দির প্রাঙ্গণকে যেন পৌরাণিক কালের একটি রহস্যময় স্থানে পরিণত করে। আর তারই মধ্যে মুখাছাড়া জীবন্ত দেবীর আবির্ভাব ঘটে; এই পর্বে অখিল মালি নামের এক শিল্পী মুখ-দেহে কালো রং মেখে, রক্তিম জিব লাগিয়ে, হাতে দা নিয়ে কালীরূপে নাচতে নাচতে সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্তে নারীদের মধ্য থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে ছুটে আসেন।
পাহাড়পুরের টেরাকোটার নৃত্যরত অবয়বের সঙ্গে ভাণ্ডারপুরের শিল্পীদের তুলনা বিশেষভাবে ভাবায়। কোমরবন্ধ থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাঁজযুক্ত অধোবস্ত্র, বাঁকানো হাঁটু ও প্রসারিত বাহুর সঙ্গে বর্তমান শিল্পীদের পোশাক ও দেহভঙ্গির সাদৃশ্য লক্ষণীয়। একই ঐতিহাসিক ভূপ্রকৃতিতে নৃত্যের প্রত্নচিত্র ও জীবন্ত চর্চার এই উপস্থিতি আঞ্চলিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে পাঠ করার সুযোগ দেয়।
লক্ষ্য করা গেছে যে, ভাণ্ডারপুর গ্রামে কোনো নারী মুখানৃত্য করেননি; তবে তাঁরা সন্তানদের সাজিয়ে ও উৎসাহ দিয়ে আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শিল্পীদের শ্রদ্ধা ও অর্থ নিবেদন করেছেন। তবে সমাপনী পর্বে মহিষাসুর বধের অভিনয়ে শিশুকন্যারা পূজারীর ভূমিকায় আমপাতায় জল ছিটিয়ে দেবীকে শান্ত করার চেষ্টার মাধ্যমে মুখানৃত্যে ভিন্নভাবে হলেও নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
এ বছর ভাণ্ডারপুর গ্রামে মুখানৃত্যে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন: নিখিল চন্দ্র মালি, নির্মল মালি, নীরব মালি, শান্ত মালি, প্রান্ত মালি, দেব মালি, সাগর মণ্ডল, অরুণ চন্দ্র মালি, নিপেন চন্দ্র মালি, রিপন চন্দ্র মালি, সুব্রত মালি, অমিত মালি, গতু চন্দ্র মালি, অখিল মালি, সুমন মালি, তাপস মালি, জয় মালাকার, দুর্জয় দাস, উপদেশ মালি, নেপাল মণ্ডল, মিঠন মণ্ডল, উত্তম চন্দ্র মালি, শয়ন চন্দ্র মালি প্রমুখ। শিশুশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন: লক্ষ্মী রাণী, রূপা রাণী, সোনালী রাণী, প্রান্ত মালি, জিতু মালাকার, জয় মালাকার, প্রমিত মালি, মোহন মালি, অমৃত মালি প্রমুখ। এসব নামই এই ঐতিহ্যের জীবন্ত মানবিক পরিচয়।
চর্যাপদের তন্ত্রসাধনায় শরীর, দৈনন্দিন জীবন ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির নিবিড় সম্পর্ক প্রকাশিত। আজ ভাণ্ডারপুরে নিম্নবর্গীয় ও পেশাজীবী মানুষের তান্ত্রিক সাধনকেন্দ্রিক কৃত্যাচার সেই প্রাচীন সাধনসংস্কৃতির স্থানিক সম্পর্ককে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। এখানে সাধনার জ্ঞান মানুষের শরীর, বাদন, পারিবারিক শিক্ষা ও সমবেত আচারে প্রবাহিত।
শুধু ভাণ্ডারপুর নয়, মহাদেবপুর, নওগাঁ সদরসহ অন্যান্য উপজেলায়ও চামুণ্ডাপূজা ও নৃত্য মানুষের ভক্তি-ভালোবাসায় সমৃদ্ধ। গুপ্ত তান্ত্রিক আচারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এর অনেক জ্ঞান পরিবার ও সাধকগোষ্ঠীতে সীমিত; প্রচার ও গবেষণাও তুলনামূলক অল্প। চর্চাকারীদের আস্থা ও সম্মতি নিয়ে এই ঐতিহ্য নথিবদ্ধ করা জরুরি।
সন্ধ্যা ঘনালে নৃত্য শেষ হয়। হৃদয়ের তাণ্ডব, মায়ের হাতে সন্তানের সাজ, প্রবীণের সানাই, নারীর ভক্তি নিবেদন—সব মিলিয়ে ভাণ্ডারপুর জীবন্ত ঐতিহ্যের আশ্চর্য জনপদ। প্রাচীন সোমপুরের চারপাশে মানুষের শরীরে, স্মৃতিতে ও ভালোবাসায় এমন কৃত্যমূলক সংস্কৃতি আজও চর্চিত হচ্ছে। আগামী বছরের অপেক্ষা নিয়ে গ্রামবাসী ফিরে যান; ঐতিহ্যের আগামীও তাঁদের সঙ্গে পথ চলে।
সাইমন জাকারিয়া: কবি ও গবেষক