চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সুয়াবিলের ফণী খালের পাড় অবৈধভাবে কেটে মাটি বিক্রির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে তিনি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি ভাঙাপুল এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খালের পাড় কেটে মাটি বিক্রির দৃশ্য সামনে আসায় সরোয়ার আলমগীর তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকেই ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্ল্যাহ এবং ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে-কে ফোন করেন। ফোনে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এই বিষয়ে সরোয়ার আলমগীর বলেন, “জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে দেন, শাস্তি দিয়ে দেন। এতে আর কেউ এমন কাজ করতে সাহস পাবে না। মানুষের বাড়িঘরের ভিটার মাটি পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এত বড় সাহস।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙাপুল গ্রামের হামিদ মেম্বারের বাড়ির সামনে ফণী খালের পাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মালেক মেম্বার ও রুবেলসহ আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিন-রাত জিপ গাড়ির মাধ্যমে খালের পাড়ের মাটি কেটে বিভিন্ন বসতভিটা ও কৃষিজমি ভরাটের কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে খালের পাড় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমিগুলো এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে পাড় কাটা অব্যাহত থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে খালের ভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ভুক্তভোগী লিলু আক্তার তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে জোর করে খালের পাড় কেটে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাড় কাটার কারণে যেকোনো সময় ঘরটি ধসে খালে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভয়ে প্রতিবাদ করতেও পারছি না।”

এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্ল্যাহ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সংসদ সদস্য নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। বর্তমানে মূল অভিযুক্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।