‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গাজার শিশুদের জন্য ১ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।’
নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে গতকাল এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার এই মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী সকল ব্যক্তি, দাতা এবং সমর্থকদের প্রতি তার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা নুজুম স্পোর্টসের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত একটি বিশেষ দাতব্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হামজা স্পষ্ট করেছেন যে, সংগৃহীত এই তহবিলের সম্পূর্ণ অর্থ গাজার শিশুদের চিকিৎসা-সহায়তার কাজে ব্যয় করা হবে। উল্লেখ্য, নুজুম স্পোর্টস ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান, যারা পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে মুসলিম অ্যাথলেটদের সহায়তা, ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
গত রোববার টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে নুজুম স্পোর্টসের আয়োজনে এই দাতব্য অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে হামজা চৌধুরীকে নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে মুসলিম অ্যাথলেটদের স্বাক্ষরিত জার্সি, পদক এবং বিভিন্ন স্মারক সামগ্রীর একটি দাতব্য নিলামের আয়োজন করা হয়।
এই নিলামে হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপজয়ী জার্সিটি ৭ হাজার পাউন্ডে এবং কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদকটি ৩ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি এবং নিলাম থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে।
হামজার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘সংগৃহীত এই তহবিল চিলড্রেন নট নাম্বারসের চমৎকার কাজে ব্যয় করা হবে, যারা গাজার শিশুদের জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা দিচ্ছে। এই শিশুদের অনেকের জন্যই চিকিৎসার্থে বিদেশ বা নিরাপদ স্থানে যাওয়া বেঁচে থাকার একমাত্র আশা। সংগৃহীত সব অর্থই এমন শিশুদের চিকিৎসার্থে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হবে, যাদের এটি অত্যন্ত প্রয়োজন।’
নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে হামজা আরও লিখেছেন, ‘স্বল্প সময়ের মধ্যে এই আয়োজনের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়েছে, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ ও বিনীতবোধ করলেও জানি এত বিশাল দুর্ভোগের বিপরীতে এটি অত্যন্ত সামান্য একটি অবদান মাত্র। এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে, তবে প্রতিটি চেষ্টাই—তা যত ছোটই হোক না কেন—পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে।’
গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ এই তথ্যকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন হামজা। তবে আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি জানিয়েছেন, ৯ নভেম্বর থেকে হামজা জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হামজাকে দলে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ দল।