বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসারদের মধ্যে বিদ্যমান আয়েশি সংস্কৃতি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, নির্দিষ্ট কিছু বিচারক মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা কোর্ট পরিচালনা করেন। তারা বেলা ১১টায় এসে কাজ শুরু করেন এবং দুপুর দেড়টা বা দুইটার মধ্যেই কাজ শেষ করে চলে যান। এই বিষয়ে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “কোনো কোনো জায়গায় এমন অভিযোগ আছে, কেউ কেউ দুই-তিন ঘণ্টা কোর্ট করেন, বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুটোর মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যান। যদি আয়েশি কোনো জুডিশিয়াল অফিসার থাকেন, তাদের আয়েশি ব্যবস্থা আমরা করতে পারব। এমন ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে আয়েশ করে চাকরি করতে পারবেন।”
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় ই-পারিবারিক আপিল আদালতের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি। ন্যায়বিচারের জায়গাকে যদি প্রকৃত অর্থে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। তিনি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং ডিজিটাল সেক্টরকে চিহ্নিত করেন। এআই-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং ডিজিটাল সেক্টর। এআই-কে মোকাবিলা করতে হলে, ডিজিটাল সেক্টরে আমাদের আরও বেশি পারদর্শী হতে হবে। বিশেষ করে আমাদের তরুণ বিচারকরা অনেক বেশি স্মার্ট। আমি বিশ্বাস করি, তারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবে এবং এআই-কে সামনে নিয়ে যাবে।”
দেশের বিচারিক ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, বিচারিক কার্যক্রমকে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার এই বিশাল স্তূপ নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর প্রচণ্ড ও অমানবিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই চাপ কমিয়ে আনতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রযুক্তির মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সহজ করার উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা এরইমধ্যে ই-বেইল বন্ড চালু করেছি এবং এর সুফল জনগণ পাওয়া শুরু করেছে। আমাদের একটা আইন আছে, সেটা হলো ডিজিটালি সাক্ষ্য নেওয়া এবং ডিজিটালি হাজিরা দেওয়া। আমরা চিন্তা করছি, এটাকেও কীভাবে ডিজিটালি আনা যায়।”
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যে কিছু আসামির ক্ষেত্রে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আসামিরা তাদের নির্ধারিত তারিখে কারাগারে অবস্থান করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, যা আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়।