আইন পেশায় প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করে এই পথ বন্ধ করার উদ্যোগের কথা জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘কেউ মনে করেন অবসরের পর একটা ওকালতির লাইসেন্স নিয়ে শেষ জীবনে ওকালতি করে খাই।…ওই পথ বন্ধের জন্য একটা উদ্যোগ নিতে আমরা বলেছি। যারা আইনজীবী হবেন, ৩৫ বছর পর গিয়ে আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ। অলরেডি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আমরা এমন একটা জায়গায় আনতে চাচ্ছি।’

সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কনভোকেশন অ্যান্ড ওরিয়েন্টেশন: অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে এই কথাগুলো বলেন আইনমন্ত্রী। ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ইন্টার্নদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই ইন্টার্নশিপের অন্যতম লক্ষ্যই হলো আপনারা প্রতিদিনের জীবন থেকে শিক্ষা নেবেন। শিক্ষার একটি ছোট সংজ্ঞাও রয়েছে, যদিও সেটি কোনো কোডিফায়েড সংজ্ঞা নয়। সেটি হলো, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত অর্জিত সব অভিজ্ঞতাই শিক্ষা। সেটি যদি হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এসে যে পরিশ্রম করছেন, সেই পরিশ্রমই আপনার জীবনের সবচেয়ে অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষা হিসেবে গাইড করবে।’

পুরো অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের পরিচালক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী এবং ইউএনডিপির (বাংলাদেশে আইনের শাসন, বিচার ও নিরাপত্তাবিষয়ক) সিনিয়র উপদেষ্টা রোমানা সোয়াইগার।

আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ‘বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির গত ১৯ আগস্টের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপিল বিভাগের এ–সংক্রান্ত রায়ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে ১৫ জন সদস্যের সবাই ঐকমত পোষণ করেছেন যে, আইনজীবী পেশার মর্যাদা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে এবং মানসম্মত পেশা হিসেবে ভবিষ্যতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাইলে নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। কমিটির সদস্যরা ঐকমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে আইন পেশায় প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩৫ বছর।’

তবে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আরও স্পষ্ট করেন যে, এই সিদ্ধান্তটি চলতি বছর থেকে কার্যকর হচ্ছে না। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন বয়সসীমা কার্যকর হবে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।